রাজউক প্রকৌশলীর ৮৭ লাখ টাকা অর্জনের উৎস নেই

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বিদ্যুৎ বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামসেদ আলীর অভিযোগ অনুসন্ধানকালে প্রায় ৮৭ লাখ ৭৯ হাজার টাকা অর্জনের বিষয়ে কোনো গ্রহণযোগ্য উৎস ছাড়াই বৈধ আয় বলে দেখান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একজন অনুসন্ধান কর্মকর্তা। 

কমিশনের কাছে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় অনুসন্ধান কর্মকর্তা সরিয়ে নতুন করে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তাকে নিয়োগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তিনি এ অনুসন্ধান কাজ শেষ করতে পারেনি। 

দুদকের সাবেক উপপরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, রাজউকের নির্বাহী প্রকৌশলী জামসেদ আলীর অভিযোগ অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা উপপরিচালক মো. সালাম আলী মোল্লার পরিবর্তে উপপরিচালক মো. আলী আকবরকে দায়িত্ব প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। 

চিঠিতে বলা হয়েছে, অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা কমিশনে যে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তাতে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তার স্ত্রী মোট ৩ কোটি ৩০ লাখ ৬ হাজার ৬৬২ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন বলে উল্লেখ করেন। এসব সম্পদ অর্জনের উৎস হিসেবে অনুসন্ধান কর্মকর্তা অভিযুক্ত প্রকৌশলী জামসেদ আলীর প্রারম্ভিক জের ৫৮ লাখ ১১ হাজার ৬৬৯ টাকা ও গৃহসম্পত্তির আয় ২৯ লাখ ৬৮ হাজার ৩২ টাকাসহ মোট ৮৭ লাখ ৭৯ হাজার ৭০১ টাকা কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই গ্রহণযোগ্য আয় হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যা যৌক্তিক বলে মনে হয় না। তার সম্পদ অর্জনের উৎসের সঠিক যাচাই হওয়া দরকার। তাছাড়া অনুসন্ধান কর্মকর্তার চাকরির বয়সও শেষ পর্যায়ে। তাই অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে নথিপত্র বুঝে নিয়ে কোয়ারীর জবাবসহ অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন অনুসন্ধান কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়। 

দুদকের তথ্যমতে, ২০১৯ সালে রাজউকের প্রকৌশলী জামসেদ আলীর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দুদকে জমা পড়ে। কমিশন অভিযোগটি অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংস্থাটির উপপরিচালক মো. সালাম আলী মোল্লাকে দায়িত্ব দেয়। তিনি অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে প্রকৌশলী জামসেদ আলী ও তার স্ত্রীর সম্পদ বিবরণী জমা নেন। অনুসন্ধান কর্মকর্তা সম্পদ বিররণী যাচাই শেষে কমিশনে একটি প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনাকালে কমিশনের নজরে আসে প্রকৌশলী জামসেদ আলীর প্রারম্ভিক জের ৫৮ লাখ ১১ হাজার ৬৬৯ টাকার ও গৃহসম্পত্তি থেকে আয় ২৯ লাখ ৬৮ হাজার ৩২ টাকাসহ মোট ৮৭ লাখ ৭৯ হাজার ৭০১ টাকার গ্রহণযোগ্য কোনো উৎস নেই। অথচ অনুসন্ধান কর্মকর্তা কোনো ধরনের গ্রহণযোগ্য উৎস ছাড়াই এ পরিমাণ সম্পদ অর্জনকে বৈধ বলে উল্লেখ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে কমিশনের সন্দেহ হলে অনুসন্ধান কর্মকর্তা সালাম আলী মোল্লাকে সরিয়ে উপপরিচালক মো. আলী আকবরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ২০২২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব পেয়ে এক বছরের বেশি সময় পার হলেও এ অনুসন্ধান কাজ শেষ করতে পারেনি। ইতোমধ্যে তিনি অভিযোগ সংক্রান্ত ফাইলটি দুদকে সারেন্ডার করেছেন। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের একজন উপপরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাজউকের প্রকৌশলী জামসেদ আলীর অনিয়ম-দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পিআরএল-এ যাবেন। তিনি অনুসন্ধানের দায়িত্ব পাওয়ার পর ফাইল চালুই করতে পারেননি। ইতোমধ্যে তিনি অভিযোগ সংক্রান্ত ফাইলটি দুদকে সারেন্ডার করেও দিয়েছেন। ভবিষ্যতে অন্য একজন কর্মকর্তাকে অভিযোগ অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।