গায়ক নয় স্টোরিটেলার হতে চেয়েছিলাম

মাহতিম সাকিব। প্রথম থেকেই একটু অন্যরকম। গান গাইতে এসেছিলেন। শুরুটা করতে চেয়েছিলেন আলাদাভাবে, করলেনও তাই। তার সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা হয়। এই উদীয়মান তারকার জীবন, গান ও স্টোরিটেলার হওয়ার গল্প শুনলেন ইমরোজ বিন মশিউর

নিজেকে তারকা ভাবেন না

তারকা তো শাহরুখ খান। আমাদের নিজেদের তারকা ভাবার সুযোগ নেই। তবে কিছু মানুষের ভালোবাসা খুব কাছ থেকে সামনে থেকে পেয়েছি, কিছু স্বপ্ন পূরণ হতে দেখেছি। একসময় যে মানুষগুলোকে দূর থেকে দেখতাম, আজ তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছি। আমার কাছে এটাই স্টারডম। যাদের ছোটবেলা থেকে দেখে বড় হয়েছি, তারা এখন ফোন দিলে ফোন তোলেন- এটাই আমার কাছে তারকা হওয়া। এদের অনেকে আমাকে নামে চেনে- এর চেয়ে বেশি আর কী চাইতে পারি। তবে নিজেকে তারকা ভাববার মতো অবস্থা এখনো তৈরি হয়নি- টু বি অনেস্ট।

গানজীবনের গল্প

২০১০ সালের একটি রিয়েলিটি শোতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমার গানে আসা। এর পর বেশ কিছুদিনের বিরতি। এরপর ২০১৮ সালে ‘এই মন তোমাকে দিলাম’-এর কভারের মাধ্যমে গানে আসা। ওই বছরই এলো আমার খুব পছন্দের একটা গান ‘বুকের বাঁ পাশে’। গানটি ভীষণ শ্রোতাপ্রিয়তা পায়। ২০২০ সালের কলকাতা থেকে গান গাওয়ার প্রস্তাব পাই। বছরের শেষে গানটি করি। এরপর ছয় মাস তাদের কোনো সাড়াশব্দ ছিল না। পরের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে গানটি অন্যরকমভাবে অবমুক্ত হয়। এর পরই শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস-এর সঙ্গে আমার তিন বছরের চুক্তি হয়। এর পরের গল্প তো অনেকেরই জানা। আমি গান গাওয়ার জন্য ফিল্মফেয়ার নমিনেশন পাই। এ ছাড়াও এই সময়ের মধ্যে আমি বাংলাদেশের অনেক ছবির গানে কণ্ঠ দিয়েছি, সলো অনেক গান ছিল। আর নিজের ইউটিউব চ্যানেলে কিছু গান দিয়েছি।

সাকিব বলেন, আমি কনটেন্ট ক্রিয়েটর হতে চেয়েছিলাম। আমি কখনোই ভাবিনি আমি একজন প্লে-ব্যাক আর্টিস্ট হব। আমি আসলে মানুষকে গল্প শোনাতে চেয়েছিলাম। সেটা যেকোনো ফর্মে। গান, কবিতা, মুভি বা শর্টফিল্ম। আমি মানুষকে গল্প শোনাতে চেয়েছিলাম। আমি হতে চেয়েছিলাম একজন স্টোরিটেলার। ছোটবেলা থেকে এটাই আমার মাথায় ঘুরত। আমার স্বপ্ন ছিল গল্প বলার। আমি এখনো স্বপ্ন দেখি- আমি মানুষকে আমার গল্পগুলো শোনাচ্ছি। এই মুহূর্তে এটাই বলব- ইন এনি ফরম্যাট, আই ওয়ান্ডেট টু বি আ স্টোরিটেলার। আমি অন্য কারও গল্প বলতে চাইনি, আমি আসলে সব সময় আমার নিজের গল্পই বলতে চেয়েছিলাম। আমি নিজের মতো কিছু করতে চাই নিজের গল্প বলতে চাই।

বেড়ে ওঠা-গড়ে ওঠা

বেড়ে ওঠার বিষয় নিয়ে শুধু এটুকুই বলতে চাই- আমার জীবনের কোনো শখ অপূর্ণ থাকেনি। আর গড়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকায় মা। আমি হলাম বড়ে, আর চেসবোর্ডের মাস্টারমাইন্ড হলেন মা। পুরো যুদ্ধটা মায়ের। আমি যখন বৃষ্টিতে ভিজেছি, মা আমার পাশে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজেছেন। আমি যেসময় রোদে হেঁটেছি, মা-ও আমার সঙ্গে হেঁটেছেন। দ্য ওয়ার ওয়াজ অলওয়েজ বিন হার। তিনি যোদ্ধা, আমি শুধু তার মুখপাত্র। আর দ্বিতীয় ব্যক্তিটি আমার চাচা, আমার সংগীতগুরু। আর বাবার কথা কী-ইবা বলব।

মূলত ক্রিয়েটর হতে চান মাহতিম সাকিব। কেননা এসব কাজ তার ভীষণ পছন্দ। আইটি সেক্টর নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছেন। সেই সঙ্গে স্টোরিটেলিং প্রজেক্টটা এগিয়ে নিতে চান। তিনি এমন গল্প বলতে চান যা শুনে আপনার মনে হবে- আরে, এ গল্পটা তো আমার। ‘মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি ভালো কিছুর জন্য পরিবর্তিত হচ্ছে’ তবে তিনি মনে করেন না পেশা হিসেবে এ দেশে সংগীতকে নেওয়া যায়। তিনি কাউকে ডিসকারেজ করেন না তবে কেউ যদি জানতে চান তবে তিনি তাকে ‘না’ বলবেন।

নতুন কাজ নিয়ে সাকিব বললেন, শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস-এর কিছু কাজ করছি। আর আমি আমার চ্যানেলে কিছু কাজ করছি। প্রিয় কাজ প্রসঙ্গে বললৈন, একটা ‘তুমি জানতে পারনি’ অপরটি ‘থেমে গেছে বৃষ্টি’। তিনি বলেন, ‘থেমে গেছে বৃষ্টি’ গানটির জন্য ভাঙা ভাঙা গলার দরকার ছিল আর এমন ভাঙা গলার জন্য তিনি দুটো আইসক্রিম খেয়েছিলেন। এই দুটো গান গেয়ে তার আর্টিস্ট ইগো স্যাটিসফায়েড বলেও জানান সাকিব।