আরিফিন শুভকে ‘ধান্দাবাজ’ বলে তোপের মুখে মিলন 

চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ রাজধানীর পূর্বাচলে ১০ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সমালোচকদের দলে যুক্ত হন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন। তিনি আরিফিন শুভকে ইঙ্গিত করে ধান্দাবাজ হিসেবে অভিহিত করেন। পরে নেটিজেনদের তোপের মুখে নিজের পোস্ট মুছে ফেলেন।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নিজের ফেসবুক মাধ্যমে শুভর নাম না উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘১ টাকা বিনিয়োগ করে লাভ ১৫ কোটি টাকা। এমন ধান্ধাবাজী ব্যবসা জগতের কোথায় আছে!’

নাম উল্লেখ না করলেও বিষয়টি যে আরিফিন শুভকে ইঙ্গিত করে লেখা হয়েছে সে বিষয়টি স্পষ্ট হয় তার আরেকটি মন্তব্যে। প্রবাসী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আমিনুল ইসলামের একটি পোস্টে তিনি মন্তব্য করেছেন। আমিনুল ইসলাম নামের ওই শিক্ষক আরিফিন শুভর সংবাদের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আমিও এক টাকায় পড়াতে রাজি আছি। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় না। দরকার হয় কেজি-নার্সারি লেভেলে পড়াবো। ১০ কাঠা লাগবে না। আমার ৫ কাঠা হলেই হবে।’

এই পোস্টে মিলন লিখেছেন, ‘১ টাকার তেলের মূল্য ১০ কোটি টাকা।’

এদিকে মাহবুব কবির মিলনের পোস্টে নেটিজেনরা পক্ষে বিপক্ষে কথা বলতে থাকেন। এক পর্যায়ে অ্যাক্টিভিস্ট অমি রহমান পিয়াল মাহবুব কবীর মিলনকে বলেন, আপনি নিজেও রাজউকের প্লট পেয়ছিলেন, সরকারি মূল্যে মাত্র দেড় লাখ টাকা কাঠা রেটে। এই টাইপের প্লট পেতে জয়েণ্ট সেক্রেটারি বা তার ওপরে পোস্ট লাগে। আপনি তখন সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি। সেবার কোনো ডেপুটি সেক্রেটারিও প্লট পায়নি। আপনাকে ফেভার করার রহস্যটা যদি বলতেন?’

এর জবাবে মিলন বলেন,‘পূর্ত মন্ত্রণালয়ের কোটায় পেয়েছিলাম।কাজ করতাম পূর্তর আন্ডারে উপসচিব হিসেবে। আমি জানতামও না যে পাবো। একদিন বাসায় বরাদ্দ পতর এসে হাজির। এই বিষয় নিয়ে আপনাদের খারাপ লাগছে সরিয়ে নিলাম।’

মাহবুব কবির মিলনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেকজন বলেন, ‘মিলন সাহেবের উত্তর শুনে মনে হচ্ছে তিনি আবেদনই করেননি।’

রাজউক সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৮তম বোর্ড সভাটি অনুষ্ঠিত হয় ২৭ নভেম্বর। এ বোর্ড সভাতেই অভিনেতা আরিফিন শুভর নামে ১০ কাঠা আয়তনের একটি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পরে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিনেতা আরিফিন শুভর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাড়ির ঠিকানায় চিঠি দিয়ে বরাদ্দের এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন।