ঈশ্বরগঞ্জে এক রাতেই ৮ গরু চুরি, আতঙ্কে খামারিরা

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে থামছে না গরু চুরির ঘটনা। এক রাতে পাশাপাশি দুটি গোয়াল ঘর থেকে চুরি হয়েছে আটটি গরু। গতকাল মঙ্গলবার (০২ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের তারাটি চরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গত ১০ দিনের ব্যবধানে ১৫টি গরু চুরি হয়েছে।

এসব চুরির ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছে উপজেলার খামারিরা। স্থানীয়রা জানান, গত ২৮ ডিসেম্বর একটি বাড়ি থেকে তিনটি গরু চুরি হয়। এর আগে ২৪ ডিসেম্বর অপর একটি বাড়ি থেকে চারটি গরু চুরি হয়। এর মধ্যে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ৫ জনকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে এবং তিনটি গরু উদ্ধার করেছে।

স্থানীয়রা জানান, তারাটি চরপাড়ার মমিন আলী পাঁচ ছেলে মো. নয়ন, মো. খোকন, মো. রোকন, মো. সুজন এবং খাইরুল ইসলাম। এদের মধ্যে খোকন মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী দেলোয়ারা চারটি গরু লালন-পালন করে সংসার চালাচ্ছিলেন। অপরদিকে পাশের একটি গোয়াল ঘরে খাইরুলের দুটি, সুজনের দুটি এবং রোকনের একটি ছোট গরু ছিল।

এর মধ্যে ছোট গরুটি ছাড়া বাকি গরু নিয়ে যায় চোর চক্র। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানায়, চুরি হওয়া এসব গরুর মূল্য আনুমানিক ছয় থেকে সাড়ে ছয় লাখ টাকা।

ক্ষতিগ্রস্ত সুজন জানান, গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে গরুকে খাবার দিয়ে ঘুমাতে চলে যান তিনি। পরে সকালে গরুকে খাবার দিতে গিয়ে দেখেন গোয়াল ঘর খালি। এরপর তার চিৎকারে বাড়ির লোকজন এসে দেখতে পান পাশের গোয়াল ঘরে চারটি গরু নেই। সুজন বলেন, ‘রোকনের গরুটা ছোট দেখে অথবা পিকআপে জায়গা হয়নি বলে ফেলে রেখে গেছে।’ 

রোকন বলেন, ‘বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠে গোয়াল ঘরে গরু দেখতে না পেয়ে আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। আমরা গরীব মানুষ। গরুগুলোই  ছিল একমাত্র সম্বল। সব গরু চুরি করে নিয়ে গেল। এখন আমাদের কি হবে?’

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ঈশ্বরগঞ্জ থানার এসআই আশরাফুল আলমসহ একটি টিম। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা চোরকে আটক বা গরু উদ্ধার করতে পারেনি। ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাজেদুর রহমান বলেন, চুরি যাওয়া গরু উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।