স্বতন্ত্রের দাপটে অস্বস্তিতে নৌকার প্রার্থীরা

পোস্টার, মাইকিং আর মিছিলে ময়মনসিংহে জমে উঠেছে ভোটের প্রচার। বিএনপিবিহীন এবারের ভোট অনেকটা একতরফা হলেও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হওয়ায় উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। ফলে নৌকা প্রতীক পেয়েও স্বস্তিতে নেই আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরা। ময়মনসিংহের ১১ আসনের মধ্যে অন্তত ৭টিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সঙ্গে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও দুটি আসনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীর লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী না থাকায় অনেকটাই স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বস্তিতে রয়েছেন ময়মনসিংহ-২ ও ১০ আসনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। কেউ নৌকার পক্ষে, কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। এতে নৌকার প্রার্থীরা অস্বস্তিতে পড়েছেন।

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া) আসনে নৌকার প্রার্থী প্রয়াত প্রমোদ মানকিনের ছেলে জুয়েল আরেং। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক সায়েম। আদিবাসী-অধ্যুষিত এই আসনে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী মার্শেল মালেশ চিরান। গোত্রের দুই প্রার্থী থাকায় আদিবাসী সমাজের ভোট ভাগাভাগিসহ আওয়ামী লীগের ভোট ভাগাভাগির সমীকরণে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদুল হক সায়েম আছেন সুবিধাজনক অবস্থানে।

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে বিএনপির সাবেক এমপি শাহ্ শহীদ সারোয়ার স্বতন্ত্র হিসেবে থাকলেও নির্ভার নৌকার প্রার্থী শরীফ আহমেদ।

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দাপটে মহা ঝুঁকিতে আছেন নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী প্রয়াত মাহবুবুল হক শাকিলের স্ত্রী নীলুফার আনজুম পপি। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন গৌরীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোমনাথ সাহা, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা নাজনীন আলম, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শরীফ হাসান অনু ও মোর্শেদুজ্জামান সেলিম। আওয়ামী লীগের ভোট কয়েক ভাগ হয়ে ঝুঁকিতে পড়তে পারেন নৌকার প্রার্থী।

ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে নৌকার প্রার্থী মোহিত উর রহমান শান্তর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল হক শামীমের। আওয়ামী লীগের একটা অংশ ছাড়াও ব্যবসায়ী ও পরিবহন মালিক শ্রমিকদের বেশিরভাগই সমর্থন দিচ্ছেন ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও ময়মনসিংহ জেলা মোটর মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি সিআইপি আমিনুল হক শামীমকে। তবে নৌকার প্রার্থী শান্ত বলেন, ‘ময়মনসিংহ সদরে অতীতে নৌকার সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে কেউ জয়ী হতে পারেননি, এবারও ব্যত্যয় হবে না।’

ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ। নৌকার প্রার্থী সরে গেলেও আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন নজরুল ইসলাম ও বদর আহমেদ। ফলে ঝুঁকিতে আছেন জাতীয় পার্টির সালাহউদ্দিন।

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে নৌকার প্রার্থী বর্তমান এমপি মোসলেম উদ্দিনের সঙ্গে লড়বেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মালেক সরকার, খন্দকার রফিকুল ইসলাম এবং বর্তমান এমপির মেয়ে সেলিমা বেগম সালমার। এমপির পারিবারিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব কাজে লাগিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সুবিধা নিতে পারেন।

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে নৌকার প্রার্থী হাফেজ মাওলানা রুহুল আমিন মাদানী। ত্রিশাল পৌরসভার মেয়র এবিএম আনিছুজ্জামান পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন এ আসনে। আওয়ামী লীগের একটা বড় অংশ সমর্থন দিয়েছে আনিছুজ্জামানকে।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফখরুল ইমাম। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান সুমন। গত দুই মেয়াদে এমপি থাকাকালে প্রত্যাশিত উন্নয়ন করতে না পারায় ফখরুল ইমাম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন বলে স্থানীয়দের ধারণা। ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে নৌকার প্রার্থী সাবেক এমপি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আবদুস সালাম। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান এমপি আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহীন। দ্বিধাবিভক্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছেন।

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে শক্তিশালী স্বতন্ত্র না থাকায় নৌকার প্রার্থী ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল স্বস্তিতে আছেন। ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে নৌকার প্রার্থী কাজিম উদ্দিন আহমেদ ধনুর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এমএম ওয়াহেদ। দলের ভোট ভাগ হয়ে ঝুঁকিতে পড়তে পারেন নৌকার প্রার্থী।