প্রচারণায় বাধা ও প্রধান এজেন্টসহ নির্বাচন পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া এজেন্টদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা প্রত্যাহার দাবিতে বেড়া থানার সামনে প্রতীকী ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন পাবনা- ১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ও তার সমর্থকরা।
গতকাল বুধবার দুপুরে বেড়া শহীদ আব্দুল খালেক স্টেডিয়াম থেকে মিছিল নিয়ে এসে থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন আবু সাইয়িদের ট্রাক মার্কার সমর্থকরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকালে নির্বাচনী প্রচারণায় পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি বেড়া পৌর এলাকার ট্রাক মার্কার মিছিলের জন্য বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে খ- মিছিল নিয়ে আসেন নেতাকর্মীরা। স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আব্দুল বাতেন, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুর রহমান মাসুদসহ নেতাকর্মীরা এ সময় জানান কয়েকটি এলাকা থেকে ট্রাক মার্কার সমর্থকদের মিছিলে আসতে নৌকার সমর্থকরা বাধা দিয়েছে ও হামলা চালিয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে নেতারা কর্মসূচি পরিবর্তন করে থানার সামনে অবস্থান নিয়ে রাস্তায় বসে পড়েন। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোরশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক বেড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান অভিযোগ করেন, ‘ট্রাক মার্কার পক্ষে স্থানীয় মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছে। এতে ভীত হয়ে মোহনগঞ্জ ও পায়না এলাকায় নৌকার সমর্থক আলী, মহরম, নায়েব আলীর নেতৃত্বে মিছিলে বাধা দিয়ে নেতাকর্মীদের ধাওয়া করা হয়। একইভাবে, বেড়া বাজার এলাকায় নৌকার সমর্থক সন্ত্রাসীরা নেতাকর্মীদের মিছিলে বাধা দিয়েছে।’
ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ জানান, ‘বেড়া সাঁথিয়ায় ট্রাক মার্কার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জনসমর্থন না পেয়ে নৌকার প্রার্থী শামসুল হক টুকু ও তার ছেলে বেড়া পৌর মেয়র আসিফ শামস রঞ্জনের নির্দেশে আমাদের প্রতিটি কর্মসূচিতে হামলা করা হচ্ছে। নিজেরাই আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা ভাঙচুর চালিয়ে আলামত ছাড়াই আমার প্রধান এজেন্ট আব্দুল বাতেনসহ নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা বিস্ফোরক আইনে মামলা করেছে। আমি আমার কর্মীদের নিরপত্তা চাই, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার চাই। নয়তো, জনগণ সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে যা করার তাই করবে।’
এদিকে, আবু সাইয়িদের সমর্থকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই নৌকা সমর্থকরা বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে সাইয়িদ সমর্থকদের গ্রেপ্তার দাবি করেন।
এ বিষয়ে নৌকার প্রার্থী জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বলেন, ‘উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনে একটি দল যদি মিছিল করে তাহলে আরেকটি দলও অটোম্যাটিকালি মিছিল করার চেষ্টা করে। আমার প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ থেকে বিতাড়িত হয়েছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণের শুরু থেকেই তিনি ভিত্তিহীন অভিযোগ করে যাচ্ছেন। আমি তার সঙ্গে থাকা সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার দাবি করছি।’
বেড়া থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনায় উভয়পক্ষের প্রতিটি অভিযোগ আমরা কমিশনে পাঠিয়েছি। এগুলো উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা অভিযোগ তদন্ত করে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’