পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে বাজার মধ্যস্থতাকারীদের ১০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ), যেটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির অবণ্টিত লভ্যাংশ দিয়ে গঠন করা হয়েছে। তবে পুঁজিবাজার মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান থাকলেও এ ঋণ শুধুমাত্র ব্রোকারেজ হাউজগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সিএমএসএফের জরুরি বোর্ড অব গভর্নরস সভায় এ ঋণ তহবিল বিতরণের অনুমোদেন দেওয়া হয়েছে। বোর্ড সভা শেষে সিএমএসএফ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাজার মধ্যস্থতাকারী বলতে ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজার ও মার্কেট মেকারকে বোঝায়। তবে সিএমএসএফ থেকে দেওয়া এ ঋণ শুধুমাত্র ব্রোকারেজ হাউজগুলো পাচ্ছে। পরবর্তী সময়ে অন্য মধ্যস্থতাকারীদেরও ঋণ দেওয়া হবে।
বাজার মধ্যস্থতাকারীরা সিএমএসএফ নীতিমালা এবং বাংলাদেশে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্দেশনা অনুসারে সিএমএসএফ মনোনীত ব্যাংকের মাধ্যমে এ ঋণ নিতে পারবে। ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে দেওয়া এ ঋণের সুদহার হবে সার্ভিস চার্জসহ ৯ শতাংশ।
২০২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর ক্যাপিটাল মার্কেট স্টাবিলাইজেশন ফান্ড বিনিয়োগকারী বান্ধব বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করে সিএমএসএফ বিধিমালা ২০২১ এর ধারা ৫ (১৫) অনুযায়ী এই ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিএমএসএফ আইনে মোট ফান্ডের অর্ধেক বাজার মধ্যস্থতাকারীদের ঋণ হিসেবে দিতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। এরই ধারাবাহিকতায় ব্রোকারদের শতকোটি টাকার ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নিল।
সিএমএসএফ বোর্ড অব গভর্নরস মনে করে, ক্যাপিটাল মার্কেট মধ্যস্থতাকারীদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল রাখায় ভূমিকা রাখবে এবং এই উদ্যোগটি একটি স্থিতিস্থাপক আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার মাধ্যমে বাজারের গতিশীলতা বাড়াতে বিশেষ সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
২০২১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর অবণ্টিত লভ্যাংশ নিয়ে সিএমএসএফ গঠন করা হয়। তহবিলটিতে থাকা বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে সিএমএসএফের কাছে ৬০৮ কোটি টাকা নগদ তহবিল ছিল, যেখান থেকে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে গোল্ডেন জুবিলি ফান্ডে। এর বাইরে ১৩৩ কোটি টাকা সেভিংস হিসেবে বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা আছে। এফডিআর হিসেবে ৪২৫ কোটি টাকা দেখানো হলেও এর মধ্য থেকে ২২৫ কোটি টাকা রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবিকে ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। যেটা দিয়ে আইসিবি পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে। তবে আইসিবির শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় থেকে প্রতিষ্ঠানটি কোনো কমিশন নেয় না। তবে বিনিয়োগের বিপরীতে শুধু ৭ শতাংশ হারে সুদ নেয় আইসিবির কাছ থেকে।