বর্তমান ডিজিটাল যুগে ডিজিটাল প্রচারণা কাজে লাগছে ভোটের মাঠেও। প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী প্রচার ও গণসংযোগের জন্য প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছেন। মৌলভীবাজার ৪ আসনের নৌকার প্রার্থী মাঠের পাশাপাশি অনলাইনেও সরব রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক জুড়ে ভেসে বেড়াচ্ছে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার আহবান জানানো ভিডিও বার্তা। শুধু তাই নয়, ভোটারদের মুঠোফোনেও খুদে বার্তা পাঠিয়ে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে বলা হচ্ছে।
মৌলভীবাজার ৪ আসনে ভোটের মাঠে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলেও শেষ সময়ে সভা, সমাবেশ, উঠান বৈঠকের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন টানা ছয় বারের সংসদ সদস্য, নৌকার প্রার্থী উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ। চা বাগান অধ্যুষিত এ আসনে ৪ লাখ ৫৯ হাজার ২৫৪ ভোটারের বিপরীতে সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হয়েছেন আরও দুজন। তারা হলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন (মিনার মার্কা) ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী আব্দুল মুহিত হাসানী (মোমবাতি মার্কা)।
ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর প্রচারণা থাকলেও বাকি দুজনের প্রচারণা নেই বললেই চলে। শহর ও শহরের বাহিরে তাদের পোস্টারও চোখে পড়ছে না তেমন একটা ভোটারদের। অপরদিকে নৌকার প্রার্থী সমান তালে দুই উপজেলায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। আওয়ামীলীগের দলীয় কর্মীরাও মাঠে তাদের সরব উপস্থিতির জানান দিচ্ছেন। নির্বাচনের দিন বেশি সংখ্যক ভোটার উপস্থিতি চান নেতারা। ওয়ার্ড-ইউনিয়ন পর্যায়ে পথসভা ও উঠান বৈঠক করে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের এ ব্যাপারে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। ভোটারদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে উদ্বুদ্ধ করছেন নেতারা।
সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় আব্দুস শহীদের বিজয়ের পথে কোনো বাধা নেই। তবে, অতীতের মতো এ নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস কম। এ ছাড়া বিএনপি-জামায়াতের লোকজন ভোট দিতে যাবেন না। এ ক্ষেত্রে ভোটার উপস্থিতি তেমন হবে না। অনেকে বলেন, ‘তিন প্রার্থী রয়েছেন। কিন্তু নৌকার প্রার্থী ছাড়া বাকি দুজন প্রার্থীর মার্কা কি সেটাই দুই উপজেলার মানুষ এখনও ভালোভাবে জানে না। এই দুই প্রার্থী নির্বাচনে আছেন কি নেই সেটাও কেউ বুঝতে পারছে না।’
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই নির্বাচনে সকল নাগরিকদের অংশগ্রহণ আমাদের মূল লক্ষ্য। এখন এই অংশগ্রহণের জন্য আমরা সবাইকে উৎসাহ দিচ্ছি। এবারের নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। ভোটাররা ভোট দিতে সেন্টারে যাবেন, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিবেন। এবার আমি বিজয়ী হলে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলায় আরও উন্নয়ন করব।’
প্রসঙ্গত, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যমতে, মৌলভীবাজার ৪ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৯ হাজার ২৫৪ জন। এই আসনে দুই উপজেলায় দুইটি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়ন রয়েছে।