ভোটের ছুটিতে বাড়ির পথে ছুট

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে আজ শুক্রবার সকাল ৮টায়। আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। নির্বাচন উপলক্ষে রবিবার (৭ জানুয়ারি) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এর আগে আজ শুক্রবার ও আগামীকাল শনিবার সরকারি কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ছুটি। সব মিলিয়ে টানা তিন দিনের ছুটি পেয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

ভোট উপলক্ষে ছুটি পেয়ে বাড়ির পথে ছুটছে মানুষ। আগামীকাল শনিবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৬টা দেশব্যাপী হরতাল পালন করবে বিএনপিসহ নির্বাচন বর্জনকারী রাজনৈতিক দলগুলো। হরতাল এড়াতে আজ শুক্রবারের মধ্যেই ঢাকা ছেড়েছে অনেকে। যদিও গতকাল বৃহস্পতিবার অফিস শেষ করে বাড়ির পথে ছুটেতে শুরু করেছেন চাকরিজীবীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এই তিনদিনের সঙ্গে আরো দু-একদিন ছুটি নিয়ে টানা ৪/৫ দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ নিচ্ছেন। 

বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) শেষ কর্মদিবসে দুপুর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল, ট্রেন ও লঞ্চঘাটে যাত্রীর ভিড় বেড়েছে। চাপ থাকলেও ঝামেলাবিহীনভাবেই রাজধানী ছাড়ছেন সাধারণ মানুষ। গতকাল দুপুরের পর থেকে গাবতলীর বাস টার্মিনালে সাধারণ মানুষের ভিড় বেড়েছে। ভিড় রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী বাস কাউন্টারগুলোতেও। আজ শুক্রবার সকাল থেকে ভিড় ছিল স্টেশনগুলোতে। সন্ধ্যার আগেই ঢাকা ছেড়েছেন অনেকে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রূপস খান বলেন, শুক্র-শনি সরকারি ছুটি আর রবিবার ভোটের কারণে টানা তিন দিনের ছুটি পেয়েছি। গতকাল অফিস শেষ করতে করতে রাত হয়ে গেছিল। তাই আজ বাড়িতে যাচ্ছি। 

শুধু পরিবারের টানে বা ছুটি কাটাতে নয়, অনেকে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। এমনই একজন মুদি ব্যবসায়ী মিন্টু বিশ্বাস। তিনি বলেন, নির্বাচন ও হরতাল মিলিয়ে বেচাকেনা কম হবে। এ ছাড়া ছুটিতে অনেকে বাড়িকে চলে গেছেন। এই সুযোগে দোকান বন্ধ রেখে বাড়িতে যাচ্ছি। দু'দিন বেড়ানো হবে, সঙ্গে ভোটটাও দিতে পারব। নিজের ভোট পছন্দের প্রার্থীকে দেয়াটাও তো আমাদের দায়িত্ব।

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৭ জানুয়ারি (রবিবার) সকাল ৮টায় থেকে শুরু হবে দ্বাদশ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষ হবে।

ভোটের দিন উপলক্ষে ওইদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হলেও শুক্র ও শনিবারও ব্যাংক খোলা রাখার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।