ট্রেনে আগুন

‘একসঙ্গে সবাই ছিলাম, আমরা বাঁচলেও বোন নিখোঁজ’

‘আগুন লাগার পর তার বড় ছেলে ট্রেনের এক আসন থেকে আরেক আসনে লাফিয়ে লাফিয়ে দরজার কাছে পৌঁছায়। তিনি আরফানকে বুকে জড়িয়ে ও ছোট ছেলেকে হাতে নিয়ে দরজার কাছে যান। ঠিক পেছনেই ছিলেন এলিনা। তারা একসঙ্গে সবাই ছিলেন। দরজা দিয়ে আমরা এবং স্বামী জানালা দিয়ে লাফিয়ে নামেন। নামার পর এলিনাকে না খোঁজার চেষ্টা করেছি আমরা। কিন্তু খুঁজে পাইনি। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ৫২০ নম্বর কক্ষে চিকিৎসাধীন থাকা বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী ডেইজি আকতার গণমাধ্যমকে এমনটি জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, কেউ একজন পেছন থেকে বলল, আগুন লেগেছে। মুহূর্তে দাউ দাউ আগুন, কালো ধোঁয়া। আমি ভাগ্নে আরফানকে এক হাতে বুকে জড়িয়ে ধরি। আরেক হাত দিয়ে ছোট ছেলেকে ধরে ট্রেনের দরজা দিয়ে লাফ দিই। ঠিক পেছনেই ছিল বোন (এলিনা ইয়াসমিন)। নামার পর পেছনে তাকিয়ে দেখি ও নেই।’ ডেইজির শ্বাসনালি কিছুটা পুড়ে গেছে।

আগুনে ডেইজির স্বামী ও দুই সন্তানের শ্বাসনালি পুড়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। আর ছয় মাসের আরফানকে রুটিন পরীক্ষা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সে সুস্থ আছে।
এলিনা স্বামী ও সন্তান নিয়ে রাজধানীর মিরপুরের ৬০ ফুট রোডের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।

গতকাল শুক্রবার যশোরের বেনাপোল থেকে যাত্রী নিয়ে ট্রেনটি ঢাকায় আসছিল। কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছানোর অল্প কিছুক্ষণ আগে রাত ৯টার দিকে গোপীবাগ কাঁচাবাজারের সামনে ট্রেনে আগুন দেওয়া হয়। এতে তিনটি কোচ পুড়ে যায়। এখন পর্যন্ত চারজনের লাশ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে কারও পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।