বিশ্বজুড়ে রাজনীতির সঙ্গে অভিনয় জগৎজুড়ে রয়েছে। হলিউডেও এর চর্চা কম নয়। অভিনয়শিল্পী থেকে বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের প্রধানও হয়েছেন। রাজনীতিতে হলিউডের আলোচিত শিল্পীদের নিয়ে এই আয়োজন
রোনাল্ড রিগ্যান : অভিনয়শিল্পী থেকে বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ১৯৩৭ সালে স্ক্রিন টেস্ট দেওয়ার মাধ্যমে ৭ বছরের কন্ট্রাক্ট হয় ওয়ার্নার ব্রাদারস স্টুডিওর সঙ্গে। শুরু হয় তার অভিনয় জীবন। তার কিছু বিখ্যাত মুভি হচ্ছে কিংস রো, কমেডি মুভি বেডটাইম ফর বেনজো, দ্য উইনিং টাইমের মতো আলোচিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ১৯৬৪ সালে তার ‘আ টাইম ফর চুজিং’ বক্তৃতা সারা দেশের নজর কাড়ে। সমর্থকগোষ্ঠী গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে রিগ্যান ১৯৬৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচিত হন।
১৯৬৮ আর ১৯৭৬ সালে রিপাবলিকানের প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন পাওয়ায় হেরে গেলেও তিনি ১৯৮০ সালে জিমি কার্টারকে হারিয়ে মনোনয়ন পান আর যথারীতি প্রেসিডেন্ট হন সে বছর। প্রেসিডেন্ট হওয়ার ৬৯ দিনের মাথায় তিনি আততায়ীর হাতে গুলিবিদ্ধ হন। মোটামুটি সফল প্রেসিডেন্ট ছিলেন রোনাল্ড রিগ্যান। আমেরিকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেশ ভূমিকা রাখেন তিনি। তার নাম উচ্চারিত হবে স্নায়ুযুদ্ধ বন্ধে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য।
সনি বোনো : ছিলেন একজন অভিনয়শিল্পী, সমাদৃত ছিলেন গায়ক ও গীতিকার হিসেবেও। রাজনীতিতেও নিজের জায়গা করে নিয়েছিলেন। একজন রিপাবলিকান হিসেবে ১৯৮৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার পাম স্প্রিংসের মেয়র নির্বাচিত হন। পরে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ৪৪তম ডিস্ট্রিক্টের ইউএস রিপ্রেজেনটেটিভ নির্বাচিত হন।
আলবার্ট ডেকার : ১৯৩৭ সালে দ্য গ্রেট গ্যারিক চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডে আলোচিত হন আলবার্ট ডেকার। কিলার, কিস মি ডেডলি, সেভেন সিনার্সের মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিউতা অর্জন করেন। ডেকার একজন ডেমোক্র্যাট হিসেবে ১৯৯৪৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট অ্যাসেম্বলির আসনে জয় লাভ করেন।
জেসে ভেন্তুরা : রেসলার হলেও অভিনেতা হিসেবেও ছিলেন সমাদৃত জেসে ভেন্তুরা। প্রিডেটর চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিষেক। এরপর করেছেন বেশ কিছু চলচ্চিত্র। তিনি মিনেসোটার ৩৮তম গভর্নর নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বব ডোর্নান : সাংবাদিকতার পাশাপাশি বব ডোর্নান ছিলেন একজন অভিনয়শিল্পী। বিউইচড ও ড্রিম অব জিয়ানি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ছিল তার বর্ণিল। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৩ এবং আবার ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ার ২৭তম, ৩৮তম এবং ৪৬তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভ ছিলেন।
আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার : ছিলেন কিংবদন্তিতুল্য বডিবিল্ডার। কিন্তু একসময় আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার হয়ে উঠলেন হলিউডের অপ্রতিরোধ্য ড্যাশিং হিরো। শৈশবটা টানাপড়েনের মধ্যে কাটলেও ১৯৬৭ সালে মিস্টার ইউনিভার্স খেতাব পাওয়ার পর থেকে তার জীবন চলার পথ হয়ে যায় মসৃণতর।
শোয়ার্জনেগার হলিউড চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পৃথিবীব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। ‘দ্য টার্মিনেটর’, ‘কোনান দ্য বার্বারিয়ান’, ‘প্রিডেটর’ তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র। শোয়ার্জনেগার রিপাবলিকান পার্টির একজন পদপ্রার্থী হিসেবে ২০০৩ সালের অক্টোবরে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচিত হন এবং তৎকালীন গভর্নর গ্রে ডেভিসকে স্থলাভিষিক্ত করেন। ২০০৩-এর ২৩ নভেম্বর শোয়ার্জনেগার শপথ গ্রহণ করেন। পরে ২০০৬ সালের ৭ নভেম্বর তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন।
অ্যালান অট্রি : রোড হাউজ সিক্সটি সিক্স, ওসি অ্যান্ড স্টিগস, ফরগিভেন, ভিক্টোরি বাই সাবমিশন অভিনেতা অ্যালান অট্রি একজন রিপাবলিকান। রিপাবলিকান হিসেবে ২০০০ সালে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেশ্নোর মেয়র নির্বাচিত হন। ৫ বছর ফের মেয়র নির্বাচিত হন।
রেক্স বেল : অভিনেতা রেক্স বেল ১৯২৮ সালে ওয়াইল্ড ওয়েস্ট রোমান্স চলচ্চিত্রের মাধ্যমে হলিউডে অভিষিক্ত হন। এরপর করে গেছেন একের পর এক চলচ্চিত্র। বেল নেভাদা রিপাবলিকান পার্টির নেতা ছিলেন। প্রথম হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভের জন্য লড়ে হেরে যান। এর পরের বছরগুলোতে বেল যে সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন তা তাকে ১৯৫৫ সালে লেফটেন্যান্ট গভর্নরের অফিসে জয়ী হতে সাহায্য করেছিল। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই পদে ছিলেন।
ক্লিন্ট ইস্টউড : হলিউডের সংখ্যা জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের অভিনেতা ক্লিন্ট ইস্টউড। রাজনৈতিকভাবে খুবই সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু সেভাবে ভোটের বিচারে নিজের জনপ্রিয়তা তৈরি করতে পারেননি। ক্লিন্ট ইস্টউড ক্যালিফোর্নিয়ার ছোট দ্বীপ শহর কারমেলের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন।
জন গ্যাভিন : স্পার্টাকাসের মতো আলোচিত চলচ্চিত্রের অভিনেতা ছিলেন জন গ্যাভিন। তিনি ১৯৮১ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত মেক্সিকোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ফ্রেডি গ্র্যান্ডি : মার্কিন টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেতা ছিলেন ফ্রেডি গ্র্যান্ডি। লাভ, আমেরিকান স্টাইল; দ্য গার্ল মোস্টলি লাইকলি টু... ডেথ রেস টু ২০০০, সাইড হাশলের মতো অসংখ্য জনপ্রিয় সিরিজ তার থলিতে। ফ্রেডি গ্র্যান্ডি ১৯৮৬ সালে হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভ নির্বাচিত হন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প : ট্রাম্প একজন পুরোদস্তুর অভিনয়শিল্পী না হলেও ছোটখাটো অনেক চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। কান’ট ডু ইট চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি বাজে সহশিল্পী হিসেবে একটি অ্যাওয়ার্ডও জয় করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকান থেকে বিজয়ী যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ প্রেসিডেন্ট।