বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা গোটা বাংলাদেশ। সারা দেশে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, আনসার মোতায়েন, রাস্তায় রাস্তায় পুলিশের তল্লাশি থাকার পরেও ট্রেনে কারা আগুন দিল তা বুঝতে বিজ্ঞানী হওয়া লাগে না। গোয়েন্দারা কি আওয়ামী লীগের, দুর্নীতিবাজ ও সিন্ডিকেট, মাফিয়া চক্রের পরিকল্পনা জানতে পারে না? তারা শুধু বিএনপির পরিকল্পনাই জানে? তবে তারা যা-ই জানুক, আগুন কারা দিয়েছে বাংলাদেশের জনগণসহ পুরো বিশ্ব জানে।
গতকাল শনিবার বিকেলে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ভোটের দিন ভোটার টানতে সর্বশক্তি নিয়োগ করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। সারা দেশে তাদের দলের নেতারা ভোটারদের হাত কেটে নেওয়ার, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।
রিজভী বলেন, ভোটের একদিন আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগামীকালের (আজ) ভোটের ব্যালট পেপারে নৌকায় সিল মারা ছবি দিয়ে পোস্ট করছে আওয়ামী লীগের লোকজন। গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের ভোটের ব্যালট পেপারে নৌকায় সিল মারা পেপার বইয়ের ছবি প্রমাণ করে কী ধরনের নির্বাচনী তামাশা মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে ভোটের দিন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে পাতানো নির্বাচনের জন্য দেশটাকে জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি বানিয়ে ফেলেছে। দেশকে এভাবে মৃত্যু উপত্যকা এবং জল্লাদের উল্লাসমঞ্চ বানানো হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর গোপীবাগে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিকা-ে হতাহতের নৃশংসতম বর্বরোচিত ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে।
রেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিএনপি নেতাদের দায়ী করে গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে যে অভিযোগ করা হয়েছে তার জবাবে রিজভী বলেন, ‘ক্রসফায়ারের নিত্যদিন একই কাল্পনিক গল্পের মতো তাদের প্রতিটি ঘটনায় গল্প তৈরি থাকে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ নবী উল্লাহ নবীসহ ছয়জনকে তুলে নিয়ে তাদের নৃশংস নির্যাতন করে দোষ চাপাচ্ছে বিএনপির ওপর। প্রতিটি নাশকতার ঘটনার পর বিএনপির ওপর দোষ চাপানো আওয়ামী লীগ ও তাদের দলীয় পুলিশ প্রশাসনের মজ্জাগত হয়ে দাঁড়িয়েছে।