প্রচার-প্রচারণা শেষে ও বিএনপি-জামায়াতসহ সমমনা জোটের বয়কটের মধ্য দিয়ে আজ রবিবার খুলনা মহানগরীর দুটিসহ জেলার ছয়টি আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ নির্বাচনে দুজন নারীসহ ৩৯জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করছেন। তবে এ নির্বাচনে অগ্নিসংযোগ, হামলা, কালো টাকা ছড়ানো, প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো, সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোট দিতে নিরুৎসাহিত করাসহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। যা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কাজ করছে।
জানা গেছে, ভোটকেন্দ্র ভেবে রাতের অন্ধকারে একটি স্কুলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার রাতে ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নের টিপনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে একই উপজেলার কাঁঠালতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (ভোটকেন্দ্র) মাঠে কে বা কারা আগুন দেয়। যা ওই এলাকার মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি করেছে।
টিপনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃদুলা দেবনাথ জানান, বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে গুরুত্বপূর্ণ কাগজ রয়েছে। তাছাড়া নৈশপ্রহরীও লাইব্রেরিতে ঘুমায় রাতে। সুতরাং আগুনের বিস্তার ঘটলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেত।
ডুমুরিয়া থানার ওসি সুকান্ত সাহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগুনে খর্ণিয়া ইউনিয়নের টিপনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লাইব্রেরির একটি কক্ষের দরজা পুড়ে যায়। তবে ঐ বিদ্যালয়টি ভোটকেন্দ্র নয়। এছাড়া কাঁঠালতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অগ্নিসংযোগ করাতে কোনো ক্ষতি হয়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অপরদিকে, রূপসা উপজেলার বাগমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেরোসিন দিয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। তবে নৈশপ্রহরীর চিৎকারে তারা পালিয়ে যায়।
অপরদিকে, খুলনা-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে টাকা ছড়ানো, প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি, সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোট দিতে নিরুৎসাহিত করাসহ নানা অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এস এম মোর্তজা রশিদী দারা। তিনি গতকাল শনিবার দুপুরে নগরীর টুটপাড়ায় নিজ নির্বাচনী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন।
এদিকে, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফিন জানান, খুলনা জেলার ৬টি আসনে ৫ হাজার ২২৫ জন পুলিশ, ৯ হাজার ৫১৬ জন আনসার, ৯৬ জন র্যাব সদস্য, ১৯ প্লাটুন বিজিবি, ৫৯৬ জন কোস্টগার্ড সদস্য, ৬৪৬ জন দফাদার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের পাশাপাশি নৌপুলিশের সদস্যরাও রয়েছেন। তাছাড়া মহানগরী ও উপজেলা পর্যায়ে সেনাবাহিনীর ৬০০ সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনে ৪৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বেশি সংখ্যক পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা খন্দকার ইয়াসির আরেফিন আরও বলেন, ভোটের পরিবেশ ভালো রয়েছে।