বাউফলে স্বাস্থ্যসেবার নামে প্রতারণা

হৃদরোগের চিকিৎসা দেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট!

ডাক্তার আসেন সপ্তাহে একদিন। বাকি ৬ দিন চিকিৎসা দেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডিএমএফ)। নেন ভিজিট, প্রতিটি রোগীকে দেন টেস্ট। রিপোর্ট দেখে সব ধরনের চিকিৎসা দেন। এমনকি হার্টের চিকিৎসাও দেন তারা। পটুয়াখালীর বাউফলের ‘গ্রামীণ কল্যাণ’ নামের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ। প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে প্যাথলজিক্যাল সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা। মক্কেল রেডি করার জন্য রয়েছে নিজস্ব টিম। তারা প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে মক্কেল জোগাড় করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের নগরহাট ও আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের মাধবপুর বাজারে গ্রামীণ কল্যাণ নামক প্রতিষ্ঠানটির ২টি শাখা রয়েছে। গ্রামের রোগীদের কমমূল্যে চিকিৎসার মহান ব্রত নিয়ে কাজ করার কথা বললেও এর পেছনে রয়েছে মানুষের চোখে ধুলা দিয়ে অর্থ হাতানোর পরিকল্পনা। প্রতিনিয়ত গ্রাম্য সহজ সরল মানুষকে ঠকিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, একজন ডাক্তার আছেন, যিনি প্রতি বুধবার আসেন প্রতিষ্ঠানের দুই শাখায়। নিয়মিত গাইনি রোগী দেখেন, কিন্তু তিনি গাইনি বিশেষজ্ঞ নন। করেন আল্ট্রাসনোগ্রাম। সপ্তাহের বাকি ৬ দিন রোগী দেখেন একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট। নিয়ম অনুযায়ী, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রাথমিক চিকিৎসা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ

থাকবেন। কোনো রোগীকে টেস্ট সাজেস্ট করতে পারবেন না। কিন্তু তিনি সব ধরনের রোগী দেখেন এবং চিকিৎসা দেন। এমনকি হার্টের চিকিৎসা করার প্রমাণও পাওয়া গেছে। প্রতিটি রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেন। পরীক্ষার ওপর আবার ব্যবস্থাপত্র দেন।

প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে টানানো চার্টে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ব্যবস্থাপ্রত্রের জন্য ২০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা রয়েছে। সব ধরনের টেস্টে ২ ধরনের ফি নির্ধারিত। যারা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ডিসকাউন্ট কার্ড সংগ্রহ করেছেন তাদের জন্য ১০-২০% ছাড় দেওয়া হয়। কার্ড না থাকলে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করতে হয়। চার্ট অনুযায়ী সব ধরনের বায়োকেমিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা লেখা রয়েছে, যা উপজেলার অন্যান্য প্যাথলজি থেকে বেশি।

প্রতিষ্ঠানের জন্য রোগী সংগ্রহে রয়েছে একঝাঁক মাঠকর্মী। তারা সাধারণ মানুষকে ফুসলিয়ে নিয়ে আসেন হাসপাতালে। এই কর্মীদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য কার্ডও বিতরণ করে প্রতিষ্ঠানটি। যার জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া হয় ১২০ টাকা করে। এই কার্ডের কারণে ১০ থেকে ২০ শতাংশ ডিসকাউন্ট পেয়ে থাকেন গ্রাহক।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পটুয়াখালী রিজিওনাল ম্যানেজার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘প্যাথলজিস্ট না হয়েও স্টিভের মাধ্যমে যে কোনো লোক ডায়াবেটিস পরীক্ষা করতে পারে, এর জন্য সার্টিফিকেট লাগে না।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. পিকে সাহা বলেন, ‘কোনো প্যারামেডিক প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারেন। তারা নিয়মিত রোগী দেখা বা কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সাজেস্ট করতে পারবেন না। যদি কেউ এরূপ করেন তাহলে তিনি দ-নীয় অপরাধ করছেন। আমি ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

জেলা সিভিল সার্জন মো. কবির হাসান বলেন, ‘এ রকম করার সুযোগ নেই। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’