সকাল থেকে নির্বাচন দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র, ওআইসি, রাশিয়া, ফিলিস্তিন ও গাম্বিয়ার পর্যবেক্ষকরা। তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে ঘুরে তারা ভোটার এবং প্রার্থীর এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা যা দেখেছেন ও বুঝেছেন, তাতে বাংলাদেশের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। গতকাল রবিবার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তারা এ সন্তোষ প্রকাশ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সাবেক সদস্য জিম বেটস বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি যেটি দেখেছি, সেটি হচ্ছে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। বাংলাদেশে ভোটগ্রহণের সময় পৃথিবীতে সবচেয়ে কম। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে আট ঘণ্টা ভোট হয় না।’
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির টিকিটে নির্বাচিত সাবেক ওই কংগ্রেস সদস্য বলেন, ‘আমি অবশ্যই বলতে চাই, আমার দেশের গণমাধ্যম বাংলাদেশের গণমাধ্যমের মতো অনুসন্ধানী ও সৎ নয়। যেটি বাস্তবে হয়, সেটির বিষয়ে তারা রিপোর্ট করে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আরেক পর্যবেক্ষক এবং আমেরিকান গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিসের প্রধান নির্বাহী আলেক্সান্ডার গ্রে বলেন, ‘আমি নিজের চোখে যা দেখেছি, সেটি হচ্ছে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। নির্বাচন দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে। ভোটাররা উৎসাহের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে গেছেন। আমরা সন্তুষ্ট যে, নির্বাচন অত্যন্ত দক্ষতা ও সততার সঙ্গে পরিচালনা করা হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে ওআইসির নির্বাচন ইউনিটের প্রধান শেখ মোহাম্মদ বন্দর বলেন, ‘সহিংসতার কোনো চিহ্ন পর্যবেক্ষক হিসেবে আমাদের চোখে পড়েনি। আমি অবাক হয়েছি, দোকাপাট বন্ধ কেন! শহর ছিল শান্ত। সড়কে কোনো মানুষ দেখা যায়নি।’
এ সময় আরব ইলেকটোরাল ম্যানেজমেন্ট বডির সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা জানান ওআইসির নির্বাচন ইউনিটের প্রধান শেখ মোহাম্মদ বন্দর। তিনি বলেন, ‘আমার দেশের পাশাপাশি আমি ওই সংগঠনেও (আরব ইলেকটোরাল ম্যানেজমেন্ট বডি) প্রতিবেদন জমা দেব। যে কারণে পর্যবেক্ষক হিসেবে সাড়া দেওয়া আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’
শেখ মোহাম্মদ আরও বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অভিজ্ঞতা বিনিময়। আপনাদের অভিজ্ঞতা এবং আমি ও বাংলাদেশে আমার সহকর্মীরা আজকে যা দেখলাম, এ সফরে আমরা একে অন্যের কাছ থেকে শিখলাম। এটা একটি পেশাগত সফর ছিল। নির্বাচনী পরিবেশ দেখে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা ভালো নির্বাচনী প্রক্রিয়া দেখেছি।’
ভোটার উপস্থিতির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ মোহাম্মদ বন্দর বলেন, ‘আমি এখনো জানি না কত শতাংশ ভোট পড়েছে। সকালে যখন আমরা কেন্দ্র পরিদর্শন করি, তখন ভোটার উপস্থিতি খুবই কম ছিল। মানুষ আশা করছিল, উপস্থিতি বাড়বে। যদি বাধ্যবাধকতা না থাকে, আপনি কেন্দ্রে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং কেউ আপনাকে ভোট দিতে বাধ্য করতে পারে না। ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে আপনাদের দেশে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই, তাই এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারি না।’ কেন্দ্রে কম ভোটার উপস্থিতির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘১৫ বা ১৬ শতাংশ ভোট পড়লে সেটা নির্বাচন আয়োজকদের জন্য বার্তা। এর কারণ রাজনীতিকরা বিশ্লেষণ করবেন।’
এদিকে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের একটি দল ভোটের পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। গতকাল দুপুরে রাজধানীর দারুসসালামে বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ভোট পরিদর্শন শেষে এ প্রতিক্রিয়া জানান তিন বিদেশি পর্যবেক্ষক।
দলের একজন ডেপুটি হেড অব মিশন ইউএস এসটিও টেরি এল. ইসলে এ সময় বলেন, ‘ভোটের পরিবেশ ভালো। মানুষ ভোট দিচ্ছে। আমরা আশা করছি ৫০ শতাংশ ভোট পড়বে। আমরা কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করছি। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়েনি।’ নিকোলাস বলেন, ‘নারী ভোটারদের উপস্থিতি খুবই সন্তোষজনক।’
দলের আরেক সদস্য জার্মান সমাজকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ভোলকার ইউ ফ্রেডরিক বলেন, ‘স্বচ্ছ নিয়ম মেনেই ভোট হয়েছে। না, ভোটকেন্দ্রে আমরা কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখিনি। আমরা ভোটকেন্দ্রগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেছি। ভোটের ফলাফল নিয়ে আমাদের আগ্রহ বাড়ছে।’
আমাদের স্থানীয় প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যমতে, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছে কমনওয়েলথের প্রতিনিধিদল। টেরি ডেইল ও সব্যসাচী ব্যানার্জি নামে কমনওয়েলথের দুজন প্রতিনিধি সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র এবং বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের দুটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা কেএম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথ তারা ঘুরে ঘুরে দেখেন। এ সময় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে কয়েকটি বুথে এজেন্ট দেখতে না পেয়ে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন তারা।’