টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে ২৮ হাজার ৯০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন গামছা প্রতীকের কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম)। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী (নৌকা প্রতীক) অনুপম শাহজাহান জয়। তিনি ৯৬ হাজার ৪০১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৫০১ ভোট। স্থানীয়দের মতে, দলের সাংগঠনিক নির্লিপ্ততাই বঙ্গবীরের পরাজয়ের মূল কারণ।
এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯০ হাজার ১১৯ জন। এর মধ্যে ৪২ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। সখীপুর ও বাসাইলের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া যায়।
ভোটের আগে গুঞ্জন ছিল, এবারের নির্বাচনে বিএনপি না আসায় সরকারের প্রয়োজনেই কাদের সিদ্দিকীকে এই আসন থেকে জিতিয়ে সংসদে নেওয়া হবে। এমন টোপ পেয়ে তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের মাধ্যমে জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটেছে। মাত্র ৩৮ বছর বয়সী এক যুবকের কাছে ৭৮ বছর বয়সী কাদের সিদ্দিকীর পরাজয়। নবীনের কাছে প্রবীণের পরাজয় বলে কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধে কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ১৯৭৫ সালের বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করে ভারতে নির্বাসনে চলে যান। ১৬ বছর নির্বাসনে থাকার পর ১৯৯০ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশে ফিরে ১৯৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান। সেই নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হুমায়ুন খান পন্নীর সঙ্গে জীবনের প্রথম নির্বাচনেই হেরে যান। এরপর ১৯৯৬ সালে তিনি নৌকা প্রতীকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় আওয়ামী লীগ ছেড়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নামে একটি নতুন দল গঠন করেন। ১৯৯৯ সালের উপনির্বাচনে শওকত মোমেন শাহজাহানের (অনুপমের বাবা) কাছে হেরে যান। এরপর ২০০১ সালে তিনি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থেকে গামছা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আবার ২০০৮ সালে শওকত মোমেন শাহজাহানের কাছে প্রায় লক্ষাধিক ভোটে হারেন। ২০১৮ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে নির্বাচনে গিয়ে ঋণখেলাপির কারণে তার মনোনয়ন বাতিল হয়। ওই সময় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে হেরে যান। দীর্ঘদিন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে না পারায় তার প্রতিষ্ঠিত দল
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ টিকে থাকার শঙ্কায় আছে। ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে দেখা করেন। এরপর ওই দলের নিষ্ক্রিয় নেতারা চাঙ্গা হয়ে ওঠেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাবার পর ছেলের কাছেও হেরে গেলেন কাদের সিদ্দিকী।
কাদের সিদ্দিকী হেরে যাওয়ায় চলছে নানান আলোচনা ও বিশ্লেষণ। তার কর্মী-সমর্থক ও দলের নেতা-কর্মীরাও অনেকটা নীরব নিস্তব্ধ।