মুন্সীগঞ্জের ৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ২৮ প্রার্থীর মধ্যে বিকল্পধারার মাহী বি চৌধুরী ও তৃণমূল বিএনপির অন্তরা সেলিমা হুদাসহ ২৩ প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিকল্পধারা বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরীর এবং তৃণমূল বিএনপির নির্বাহী চেয়ারম্যান অন্তরা সেলিমা হুদার জামানত হারানোর বিষয়টি জেলা জুড়ে আলোচিত হয়ে উঠেছে। আবার ৩টি আসনে বিজয়ী ৩ প্রার্থীর সঙ্গে জামানত টিকিয়ে রাখতে পেরেছেন মাত্র ২ জন প্রার্থী। জেলা নির্বাচন অফিসার বশির আহমেদ জানান, মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের একভাগ ভোট না পেলেই জামানত হারাবেন প্রার্থী।
মুন্সীগঞ্জ-১ আসন : জেলার সিরাজদিখান ও শ্রীনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৯ প্রার্থী। এ আসনের ভোটার ৫ লাখ ৮ হাজার ৯৮৬। এর মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ১ লাখ ৯২ হাজার ৫৬৭ জন। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মহিউদ্দিন আহমেদ নৌকা প্রতীকে ৯৫ হাজার ৮৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম সারোয়ার কবীর ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন ৬১ হাজার ৫৪০ ভোট। বিকল্পধারার মাহী বি চৌধুরী কুলা প্রতীকে ১৭ হাজার ৯৩৩ ভোট পেয়ে জামানত হারান। এ ছাড়া সোনালি আঁশ প্রতীকে ৬ হাজার ৩৩৭ ভোট পেয়ে জামানত খুইয়েছেন তৃণমূল বিএনপির অন্তরা সেলিমা হুদা। এ ছাড়া লাঙ্গল প্রতীকে জাপা প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৪৭০, বটগাছ প্রতীকে আতাউল্লাহ ২ হাজার ৬৩৫, আম প্রতীকে দোয়েল আক্তার ২৯৯, ডাব প্রতীকে নুরজাহান বেগম রিতা ৮৭ এবং একতারা প্রতীকে লতিফ সরকার ৩ হাজার ২০২ ভোট।
মুন্সীগঞ্জ-২ আসন : মুন্সীগঞ্জ-২ আসন গঠিত হয়েছে জেলার টঙ্গীবাড়ি ও লৌহজং উপজেলা নিয়ে। এ আসনের ভোটার ৩ লাখ ৫২ হাজার ৫১৬ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩৪ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যাপক সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি নৌকা প্রতীকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৪৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ছাড়া এ আসনের বাকি ৮ প্রার্থীই খুইয়েছেন জামানত। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সোহানা তাহমিনা ট্রাক প্রতীকে ১৪ হাজার ১৯৬ ভোট পেয়ে জামানাত হারান। এ ছাড়া কামাল খান ডাব প্রতীকে পেয়েছেন ২১৭, ছড়ি প্রতীকে নূরে আলম সিদ্দীক ২১০, ঈগল প্রতীকে মোহাম্মদ সাইরাজ খান ৮৮০, চেয়ার প্রতীকে মোহাম্মদ সহিদুর রহমান ৪৬০, আম প্রতীকে জালাল ঢালী ২৫৪, সোনালি আঁশ প্রতীকে জাহানুর রহমান ৪৭৪ ও টেলিভিশন প্রতীকে বাচ্চু শেখ পেয়েছেন ৪৫৪ ভোট।
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসন : জেলা সদর ও গজারিয়া উপজেলা নিয়ে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসন। ভোটার ৪ লাখ ৮০ হাজার ২৪৫ জন। এর মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৯৯৫ জন। এ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী ১০ প্রার্থীর মধ্যে ৮ জনই জামানত হারিয়েছেন। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফয়সাল বিপ্লব কাঁচি প্রতীকে ৮৯ হাজার ৭০৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস নৌকা প্রতীকে পান ৮২ হাজার ৮৩৩ ভোট। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির এ এফ এম রফিকুল্লাহ সেলিম লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৯৩৬, মো. শাহীন হোসেন ছড়ি প্রতীকে ১০৬, বাবুল মিয়া চেয়ার প্রতীকে ৪৮, দুলাল হোসেন মন্ডল একতারা প্রতীকে ৭৪৩, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আজিম খান ঈগল প্রতীকে ১৯২, স্বতন্ত্র প্রার্থী চৌধুরী ফাহরিয়া আফরিন কেটলি প্রতীকে ৪৯, মমতাজ সুলতানা আহমেদ টেলিভিশন প্রতীকে ৫৪ ও মোহাম্মদ ওমর ফারুক মোমবাতি প্রতীকে পেয়েছেন ৬২০ ভোট।