‘আমাকে জোর করে হারানো হয়েছে’

ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী, নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জামাল হোসেন মিয়া অভিযোগ করেছেন, ‘গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে আমাকে জোরপূর্বক হারানো হয়েছে। আমি জয়ী হলেও পরে আমাকে ১৯৬২ ভোটে পরাজিত দেখানো হয়।’

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে জামাল হোসেন মিয়া এসব কথা বলেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকায় ১১৫টি কেন্দ্রের মধ্যে গট্রি, যদুনন্দি, রামনগর, কাইচাইল ইউনিয়নের ভোট জোরপূর্বক টেবিলের ওপর প্রকাশ্যে রেখে নৌকা প্রতীকে সিল মারা হয়েছে। এ ছাড়া বাবুর কাইচাইল, কাইচাইল, বালিয়াগট্রি, জয়ঝাপ, বড় খারদিয়া, সুতারকান্দা, পোড়াদিয়া,

কৃষ্ণারডাঙ্গী কেন্দ্রসহ কয়েকটি কেন্দ্রে প্রকাশ্যে ভোট কেটে নেয় নৌকা প্রতীকের সন্ত্রাসীরা। অধিকাংশ প্রিসাইডিং অফিসার ২০০-৩০০ ভোট কেটে নৌকায় সিল মেরে ব্যালট আগেই রেখে দেয় এবং আমার ঈগল প্রতীকের ভোটের বান্ডিলের ওপর নৌকা লিখে বান্ডিল করে। আমার চোখের সামনে ভোট কেটে নিলে এবং জাল ভোট দিতে থাকলে আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটকে বিষয়টি জানালে তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি বরং আমাকে বলেন, ভেতরে কী হলো সেটা আমার দেখার বিষয় না, প্রিসাইডিং অফিসারকে কমপ্লিন করেন। আমি তাকে জানাই প্রিসাইডিং অফিসার নিজেই ভোট কাটার সঙ্গে জড়িত। তারপরও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। আমি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বারবার ভোট বন্ধের জন্য লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। আমার পোলিং এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। ২০টি কেন্দ্র থেকে আমার পোলিং এজেন্ট বের করে দেয়।’ তিনি বলেন, ‘এ প্রহসনের নির্বাচন ফরিদপুর-২ আসনের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে যেসব কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি ও প্রকাশ্যে ভোট কেটে বাক্সে ফেলা হয়েছে, সেসব কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানাই।’

জামাল হোসেন মিয়া আরও বলেন, ‘নির্বাচনের পরের দিন থেকে আমার সমর্থকদের দুই শতাধিক ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল করে তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছে। হামলার ভয়ে আমার কয়েকশ সমর্থক এখন বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে আমার কর্মী-সমর্থকদের নিরাপত্তা দাবি করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে সালথা ও নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।