আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে

পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে ২০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

দিনাজপুর সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে চাকরি দেয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত আওয়ামী লীগ নেতার বিচার ও নিয়োগ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগীরা। বুধবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সামনে

সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের ঝানজিরা এলাকাবাসী ব্যানারে তারা মানববন্ধন করেন।এতে চাকরি প্রত্যাশীরাসহ প্রায় শতাধিক এলাকাবাসী অংশ নেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ- আওয়ামী লীগ নেতা মোতাহার হোসেন নিয়োগের কথা বলে ৭ জনের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা করে নিয়েছে। কিন্তু গোপনে চাকরি দিয়েছেন বিএনপি-জামায়াত করা লোকজনকে ।

আওয়ামী লীগ নেতা মোতাহার হোসেন ফাজিলপুর ইউনিয়নের ঝানজিরা আলিম মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্বে আছেন। গত ৮ জানুয়ারি ঝানজিরা আলিম মাদ্রাসার সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, নিরাপত্তা কর্মী ও আয়া পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। 

চাকুরী প্রত্যাশী রায়হান কবির বলেন, “আমি ঝানজিরা আলিম মাদ্রাসার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে আবেদন করি। তখন মাদ্রাসার সভাপতি মোতাহারের সাথে চাকরি বিষয়ে আমার কথা হয়। তিনি চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নেন। গত ৮ জানুয়ারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও সেদিন ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। গত  ৯ জানুয়ারী ওই পদে অন্য আরেকজনের নিয়োগ হয়ে গেছে বলে আমি শুনছি। যে নিয়োগ পাইছে তার ফলাফল কি সেটাও কেউ জানে না। আমরা এই নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

আনোয়ার হোসেন নামের এক পরীক্ষার্থীর বাবা বলেন, “আমার ছেলেকে চাকরি দেওয়ার  কথা বলে আওয়ামী লীগ নেতা ২০ লাখ টাকা নিছে। আমি মানুষের কাছে টাকা ধার করে ছেলের চাকরি জন্য তাকে টাকা দিয়েছি। কিন্তু অন্য চাকরি প্রার্থীর কাছ থেকে বেশি টাকা নিয়ে আমার ছেলেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

জিন্নুর মেহেদী নামে এক এলাকাবাসী বলেন, যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করে নিয়োগ দিলে সমস্যা নেই। কিন্তু এই মাদ্রাসার নিয়োগ পরীক্ষা হলেও তার ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। কত নম্বরের পরীক্ষা নিয়েছে সেটি প্রশ্নপত্রে উল্লেখ করা হয়নি। নিয়োগের কথা বলে অনেকের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। তাদের বাদ দিয়ে অন্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ বাতিল চাই আমরা।

ফাজিলপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঝানজিরা আলিম মাদ্রাসার সভাপতি মোতাহার হোসেন বলেন, টাকার বিনিময়ে নিয়োগের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়নি।