ট্রাক্টর-ড্রেজারে নির্বিচারে পাথর উত্তোলন, মরছে ডাহুক

বিধিনিষেধ অমান্য করে নির্বিচারে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ডাহুক নদীতে চলছে পাথর উত্তোলন। এতে করে অস্তিত্ব¡ সংকটে পড়েছে এ নদীটি। গতিপথ হারিয়ে ক্রমাগতভাবে হারাচ্ছে চিরচেনা রূপ। এক সময় অত্যাধুনিক ড্রেজার মেশিনে পাথর তোলার কারণে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ে এ নদীটি। ড্রেজারের পর এখন অভিনব পদ্ধতিতে ট্রাক্টর দিয়ে তোলা হচ্ছে নদীর বুক চিরে পাথর। পাথরখেকোদের অত্যাচারে হারিয়ে যেতে বসেছে ডাহুক নদী।

ভারত থেকে উৎপত্তি হয়ে শালবাহান ইউনিয়নের রৌওশনপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে দুটি ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে ১৪ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে ফের ভারতে ঢুকে গেছে ডাহুক। এর পশ্চিমে শালবাহান ইউনিয়ন ও পূর্বে রয়েছে বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন। দুটি ইউনিয়নের নদী ও নদীর ধারেকাছে রয়েছে হাজার হাজার একর কৃষিজমি। রয়েছে চা বাগান থেকে শুরু করে আমসহ নানা ফসলের বাগান। 

গত মঙ্গলবার দুপুরে ঘুরে দেখা যায়, নদীটির লোহাকাচি-বালাবাড়ী এলাকায় ডাহুকের বুক চিরে ট্রাক্টর দিয়ে পাথর উত্তোলন করছেন শ্রমিকরা। একটি ট্রাক্টর দিয়ে পাথর তুলতে ৮-১০ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়। তাদের দুজন পানিতে ডুব দিয়ে পাথর আটকানোর পাত্রটি বেঁধে দিয়ে আসে। পরে সে পাথর চালনার কাজ করে আরও কয়েকজন। এভাবেই ডাহুক নদীর শালবাহান মাঝিপাড়া, কালিতলা, লোহাকাচি, বালাবাড়ী, বুড়াবুড়ির কাটাপাড়া, সরকারপাড়া ও হারাদীঘি এলাকায় নদীতে ট্রাক্টর দিয়ে পাথর তোলার দৃশ্য চোখে পড়ে। এ জন্য কয়েকজন জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও থানার নামে তুলছেন টাকা। যদিও সবাই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডাহুক নদীতে প্রতিদিন নির্বিচারে তোলা হচ্ছে পাথর। ড্রেজার মেশিনের সময় থেকেই নদীটি ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। এখন ড্রেজার মেশিনের পর অভিনব পদ্ধতি হিসেবে ট্রাক্টরের ইঞ্জিনের সাহায্যে নদীর গভীর থেকে তোলা হচ্ছে হাজার হাজার সিএফটি পাথর। নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাক্টর দিয়ে তোলা হচ্ছে পাথর। রয়েছে ৮০ থেকে ১০০টি সাইট। এসব সাইট নিয়ন্ত্রণ করে পাথর তুলছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। জড়িত রয়েছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরাও।

তারা আরও জানান, ডাহুক নদীর চাষাবাদে রয়েছে ব্যাপক অবদান। বর্ষাকালে পলি মিশ্রিত পানি ছড়িয়ে দেয় এই নদ। শুষ্ক মৌসুমে ডাহুকের প্রবাহিত পানি চাষাবাদের জমিকে উর্বর করে। ডাহুকে রয়েছে নানা প্রজাতির মাছ। ক্রমাগত পাথর উত্তোলনের কারণে নদী হারাচ্ছে গতিপথ, হারাচ্ছে নিজের চিরচেনা রূপ। চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এই ডাহুক।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের রাজস্ব শাখা থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের মার্চ মাসের ১৪ তারিখের গেজেট প্রকাশের পর বাংলা ১৪২৬ সন থেকে সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ডাহুক নদীর পাথর মহাল ইজারা বন্ধ করা হয়েছে।

তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি সুজয় কুমার রায় বলেন, এ থানায় কিছুদিন হলো যোগদান করেছি। ট্রাক্টর দিয়ে পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। কোনোভাবেই ডাহুক নদীতে ট্রাক্টর দিয়ে পাথর তুলতে দেওয়া হবে না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে।