দিনাজপুর সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে একটি মাদ্রাসার চারটি পদে নিয়োগে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার বিচার এবং নিয়োগ বাতিলের দাবিতে ভুক্তভোগীরা গতকাল বুধবার দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা মোতাহার হোসেন নিয়োগের নামে সাতজনের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা করে নিয়েছেন।
সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের ঝানজিরা এলাকাবাসী ব্যানারে ওই মানববন্ধনে চাকরিপ্রত্যাশীসহ শতাধিক এলাকাবাসী অংশ নেন। মোতাহার হোসেন ফাজিলপুর ইউনিয়নের ঝানজিরা আলিম মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ৮ জানুয়ারি ঝানজিরা আলিম মাদ্রাসার সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী ও আয়া পদে নিয়োগ পরীক্ষা হয়।
চাকরিপ্রত্যাশী রায়হান কবির বলেন, ‘আমি পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে আবেদন করি। মাদ্রাসার সভাপতি মোতাহারের সঙ্গে যোগাযোগ হলে তাকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ২০ লাখ টাকা নেন। ৮ জানুয়ারি পরীক্ষা হয়। কিন্তু সেদিন ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। ৯ জানুয়ারি ওই পদে অন্য আরেকজনের নিয়োগ হয়ে গেছে বলে আমি শুনছি। যে নিয়োগ পাইছে তার ফলাফল কী, সেটাও কেউ জানে না। এভাবে তো আসলে নিয়োগ হয় না। আমরা এই নিয়োগ বাতিল করে আবার পরীক্ষা নিয়ে সুষ্ঠু নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।’
আনোয়ার হোসেন নামে এক পরীক্ষার্থীর বাবা বলেন, ‘আমার ছেলেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ২০ লাখ টাকা নিছে। আমি মানুষের কাছে ধারদেনা করে, এনজিও থেকে কিস্তির টাকা তুলে দিছি। সে প্রায় এমন সাতজনের কাছ থেকে টাকা নিছে চাকরি দেওয়ার কথা বলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জামায়াত-শিবিরের ছেলেদের কাছ থেকে বেশি টাকা নিয়ে তাদের চাকরি দিছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
তবে ফাজিলপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঝানজিরা আলিম মাদ্রাসার সভাপতি মোতাহার হোসেন বলেন, ‘টাকার বিনিময়ে নিয়োগের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এখানে সম্পূর্ণ নিয়মমাফিকভাবে নিয়োগ হয়েছে। কারও কাছ থেকে কোনো ধরনের টাকা নেওয়া হয়নি।’