রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে মাথায় ইট পড়ে মৃত্যু হওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক দিপু সানার (৩৭) মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনরা মরদেহটি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান।
এদিকে এ ঘটনায় রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সদরঘাট শাখার সহকারী পরিচালক ছিলেন। এর আগে, বুধবার সন্ধ্যার নিউ সার্কুলার রোডের সিদ্ধেশ্বরী ফখরুদ্দিন পার্টি সেন্টারের পাশের ফুটপাতে এঘটনা ঘটে।
দিপু সানার চাচা স্বপন কুমার সানা বলেন, তাদের তাদের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা থানার সোলদানা গ্রামে। দিপুর বাবার নাম তপন কুমার সানা। স্বামী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার তরুণ কুমার বিশ্বাস ও তিন বছরের ছেলে নিশিরাজ বিশ্বাসকে নিয়ে মগবাজার গাবতলা এলাকার একটি বাসায় থাকতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ বিজ্ঞানে অনার্স-মাস্টার্স করেন দিপু। এরপর ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন তিনি।
তিনি জানান, নিয়মিত বাসা থেকে বাসে করে সদরঘাটে তার কর্মস্থলে যেতেন। বুধবার অফিস শেষ করে বাসায় ফিরছিলেন। মালিবাগে বাস থেকে নেমে হেঁটে সিদ্ধেশ্বরী নিউ সার্কুলার রোডের ফুটপাত দিয়ে বাসায় যাচ্ছিলেন। এমন সময় ওপর থেকে একটি ইট/স্লাব দিপুর মাথায় পড়ে। এতে সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাটিয়ে লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনাস্থল থেকে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে পুলিশের মাধ্যমে স্বজনরা খবর পেয়ে ওই হাসপাতালে গিয়ে তার লাশ দেখতে পান।
দিপুর চাচাতো ভাই সুকান্ত বিশ্বাস ও তার স্বজনরা বলেন, এ শহর আসলে নিরাপদ না। কারো জীবনের নিশ্চয়তা নেই। কোনো মৃত্যুর দায় কেউ নিতে চায় না। আমরা এঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি।
রমনা মডেল থানার ওসি উৎপল বড়ুয়া জানান, মাথায় ইট পড়ে ব্যাংক কর্মকর্তা মারা যাওয়ার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এছাড়া কোন ভবন থেকে ইট পড়েছে সেটি বের করার কাজ চলছে।
খুলনার তেরখাদা থানার শ্রীপুর গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে দিপুর মরদেহ সৎকার করা হবে।