বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক দিপু সানা ওরফে দীপান্বিতার (৩৭) মৃত্যুর ঘটনায় এখনও কুলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। মাথার ওপর পড়া সেই ইটের উৎস খুঁজছে পুলিশ। দিপু বাসায় ফেরার পথে এ ঘটনায় হঠাৎ উড়ে আসা ইট সদৃশ কংক্রিটের ব্লক কোথা থেকে এসেছে পুলিশ সেটি নিশ্চিত হতে পারেনি। সেই বিষয়টি নিয়েই চলছে বিশ্লেষণ।
রমনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উৎপল বড়ুয়া এ বিষয়ে শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। কিন্তু তারা ওই ইট সদৃশ কংক্রিটের ব্লকটি কোথা থেকে পড়েছে সে বিষয়টি এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারেনি।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশে ফ্লাইওভার ও ভবন আছে। এটা কী ভবন থেকে পড়েছে নাকি ফ্লাইওভার থেকে পড়েছে, সেটা দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া ওই ইটটি কিভাবে পড়েছে সেটাও তারা দেখছেন। সিসিটিভি ফুটেজেও ইটটি কোথা থেকে পড়েছে তা বোঝা যাচ্ছিল না। এগুলোর উত্তর পেলে আসলে কে দোষী বা কিভাবে পড়েছে সেটা বোঝা যাবে। পড়ে সেভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে ওই এলাকায় বিভিন্নজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা নিশ্চিত না হতে পারছি কাউকে গ্রেপ্তার বা দোষ দিতে পারছি না।
এদিকে দিপু মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম। স্বামী সফটওয়্যার প্রকৌশলী তরুণ কুমার বিশ্বাস কারো সঙ্গে খুব প্রয়োজন না হলে কথা বলছেন না।
স্বজনরা বলছেন, দিপুর তিন বছর বয়সী সন্তান ঋষিরাজের চোখ তার মাকে খুঁজছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঋষিকে তার মায়ের মৃতদেহ দেখানো হয়নি। গতকাল রাতে শেষকৃত্যের আগে শেষবার তাকে মায়ের মুখ দেখানো হয়। তারা এখন ছেলেটিকে বিভিন্নভাবে ভুলিয়ে রাখছেন।
পরিবারের লোকজন ও পুলিশ জানায়, দিপু রোজ বাসা থেকে বাসে করে সদরঘাটে কর্মস্থলে যেতেন। প্রতিদিনের মতো বুধবার অফিস শেষে মালিবাগে বাস থেকে নেমে ফুটপাত দিয়ে হেঁটে সিদ্ধেশ্বরী নিউ সার্কুলার রোডের বাসায় ফিরছিলেন। সে সময় ওপর থেকে একটি ইটের স্ল্যাব তার মাথায় পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় রমনা মডেল থানায় হত্যা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোফাজ্জল হোসেন জানান, ঘটনাস্থলের ওপরে নির্মাণাধীন কোনো ভবন নেই। ফখরুদ্দিন পার্টি সেন্টার আছে। ব্লকটি কোথা থেকে পড়ল তা জানা সম্ভব হয়নি সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ দেখে।
তিনি আরো জানান, যেটির আঘাতে মৃত্যু হয়েছে, সেটি ফুটপাত নির্মাণে ব্যবহার করা হয় এমন একটি সিমেন্টের খাঁজকাটা ব্লক। দেখতে ইটের মতো। ভিডিওতে শুধু ওপর থেকে ব্লকটিকে পড়তে দেখা যায়। ফ্লাইওভার নাকি উঁচু ভবন থেকে পড়েছে তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, চারতলা ভবনটির নাম সুলতান টাওয়ার। নিচে পার্কিং, দ্বিতীয়তলায় ফখরুদ্দিন রেস্টুরেন্ট, তৃতীয়তলায় পার্টি সেন্টার ও চতুর্থতলায় ভবন মালিকের স্টোররুম। ভবনটির ছাদে কেউ থাকে না। খোলা ছাদের এক পাশে কিছু পাথর, পরিত্যক্ত কিছু আসবাবপত্র রয়েছে। ছাদের চাবি শুধু মালিক ও ফখরুদ্দিন রেস্টুরেন্টের ম্যানেজারের কাছে থাকে।
রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার রিয়াজ আহমেদ বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, ‘ঘটনার সময় আমরা অফিসে ছিলাম। পার্টি না থাকায় তেমন ভিড় ছিল না। আমাদের ছাদ থেকে বা অন্য কোনো ভবন থেকে কংক্রিটের কিছু পড়ার সম্ভাবনা নেই। অন্য কোথাও থেকে এটা পড়ে থাকতে পারে।’
নিহত দিপুর পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও সহকর্মীরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। এর মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কথা বলেন। আইনি প্রক্রিয়া যেন ঠিকমতো চলে তারও দাবি করেন তারা।