থানার সালিশে ‘প্রতিপক্ষকে’ মারলেন ইউপি চেয়ারম্যান

ঢাকার দোহারে থানার ভেতরে সালিশ বৈঠকে পুলিশের উপস্থিতে প্রতিপক্ষকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে রাইপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার বিকেলে বিবাহ বিচ্ছেদ-সংক্রান্ত এক সালিশি বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে।

দোহার থানা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে থানার আঙিনায় উপজেলার ইউসুফপুর গ্রামের এক মেয়ের বিবাহ বিচ্ছেদ-সংক্রান্ত সালিশ বৈঠক বসে। সালিশের তত্ত্বাবধানে ছিলেন দোহার থানার এসআই মিন্টু লস্কর। বৈঠকে  রাইপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন ছেলে পক্ষের অবস্থান নিয়ে মেয়ে পক্ষকে কাবিনের টাকা পরিশোধ করতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে মেয়ে পক্ষ আপত্তি জানালে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন চড়াও হয়ে মেয়ের বাবা ও চাচাকে এলোপাতাড়ি কিলঘুসি মারতে থাকেন। এ সময় সেখানে ছিলেন এসআই মিন্টু লস্কর ও নবাবগঞ্জ উপজেলার বাহ্রা ইউপির চেয়ারম্যান ডা. সাফিল উদ্দিন মিয়াসহ আরও অনেকে। পরে থানার ওসি (তদন্ত) আজাহারুল ইসলাম এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

মেয়ের বাবা অভিযোগ করে বলেন, ‘তারা পেশিশক্তির বলে আমাদের মেরে আহত করল। পুলিশের ভরসায় আমরা থানায় এসেছিলাম, কিন্তু পুলিশের সামনেই আমাদের মারধর করল।’ অভিযোগের বিষয়ে রাইপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বলেন, ‘দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, সঙ্গে সঙ্গে আমরা সমাধান করে দিই। আমি কাউকে মারধর করিনি, এটা একটা অপপ্রচার।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দোহার থানার এসআই মিন্টু লস্কর কোনো মন্তব্য করতে চাননি। দোহার থানার ওসি হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘বাদী-বিবাদীদের মধ্যে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। তারা পরে বুকে বুক মিলিয়েছেন। এ বিষয়ে কারও কোনো অভিযোগ নেই।’