বরগুনার তালতলীর খোট্রার চর-মাছ বাজার এলাকায় খালের ওপর দুই যুগ আগে নির্মাণ করা সেতুটি এখন পারাপার হওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কিন্তু এরপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ নানা পেশার মানুষ। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
জানা যায়, উপজেলার খোট্রার চর-মাছ বাজার এলাকায় খালের ওপর ২০০০ সালের দিকে একটি সেতু নির্মাণ করে এলজিইডি। এর পরে ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় সেতুটির কয়েক স্থানে দেবে এবড়োথেবড়ো হয়ে যায়। এরপর ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি আর সংস্কার করা হয়নি। সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ পারাপার করছেন। এই পারাপারে গত ৩ মাস আগে স্কুলে যাওয়ার সময় বেলালের ছেলে ইছা (৭) সেতু থেকে পড়ে মাথা ফেটে গুরুতর আহত হয়। এ ছাড়া প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির ক্রস অ্যাঙ্গেল মরিচা ধরে নড়বড়ে ও কাত হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সিমেন্টের ঢালাই বহু আগেই ভেঙে পড়েছে। মাঝখানে বিশাল ভাঙার সৃষ্টি হওয়ায় মেরামত করে সেতুর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাওয়া-আসা করছেন মানুষ। এতে যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘এই সেতুটি দিয়ে খোট্রার চরের কয়েক হাজার মানুষ তালতলী উপজেলা শহরে যাতায়াত করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও স্কুলে আসা-যাওয়া করে। প্রায়ই এই সেতু পারাপারের সময় ঘটে দুর্ঘটনা। আমাদের দাবি, দ্রুত যাতে এই সেতুটি মেরামত করে দেওয়া হয়।’
স্থানীয় জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় অনেক অসুবিধা হচ্ছে। প্রায়ই দুর্ঘটনায় মানুষ আহত হয়। সেতুটা খুব দরকার। সরকারের কাছে আবেদন করি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেতুটি নির্মাণ করে দেওয়া হোক।’
নিশানবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, ‘ভাঙা সেতুটির কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হন শিক্ষার্থী, কৃষক এবং রোগীরা। কিন্তু বিকল্প রাস্তা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শতশত মানুষকে পারাপার হতে হচ্ছে সেতুটি। আমার ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ এই সেতুটি পারাপার করেন। সেতুটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়াতে কোনো গাড়ি চলাচল করে না। তবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ পারাপার হচ্ছে।’
এ ব্যাপারে তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী ইমতিয়াজ হোসাইন রাসেল বলেন, ‘নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেতুর ডিজাইন সম্পন্ন হয়েছে। প্রাক্কলন অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন। অনুমোদন পেলে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।’