পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে আজ পর্যন্ত দুনিয়ার বুকে বিচরণশীল যত মানুষ এসেছে, প্রত্যেকেরই কোনো না কোনো লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল। আজও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তার ধরন ও পদ্ধতিতে রয়েছে ভিন্নতা। যেমন কেউ লেখাপড়া করে ডাক্তার, কেউ শিক্ষক হতে চান, কেউ হতে চান রাজনীতিবিদ বা জাতির সেবক। উপরিউক্ত সবারই কর্মপন্থায় রয়েছে ভিন্নতা। তবে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আছেই। আর দুনিয়ার এই ক্ষণস্থায়ী জীবন যেমন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছাড়া খালি নয়, তেমনি চিরস্থায়ী জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকাটাও স্বাভাবিক। তবে এ ক্ষেত্রে রয়েছে কিছু ভিন্নতা। যেমন দুনিয়ার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করেন ব্যক্তি তথা কখনো নিজে বা গার্ডিয়ান। কিন্তু ক্ষণস্থায়ী এই দুনিয়ার জীবনযাপন ও চিরস্থায়ী জীবনের সফলতার লক্ষ্য স্বয়ং আল্লাহতায়ালা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সেটাই হওয়া উচিত আমাদের কর্মপন্থা ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য।
এই মর্মে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মমিনরা! রুকু করো, সেজদা করো (এটা তোমাদের বিশেষ কাজ) এবং তোমাদের প্রতিপালকের সব ইবাদত করো। আর ভালো কাজ করো। যাতে তোমরা সফল হও এবং আল্লাহর রাস্তায় জীবনবাজি রেখে জেহাদ ও মেহনত করো, যেমন করা উচিত। আল্লাহ তো (তার বিশেষ বন্দেগি এবং নিজের পথের মেহনত-মোজাহাদার জন্য) তোমাদের নির্বাচন করেছেন। দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের প্রতি কোনো সাধ্যাতীত কঠোরতা আরোপ করেননি। নিজেদের পিতা ইবরাহিমের দ্বীনকে আঁকড়ে ধরো। তিনি আগেও তোমাদের নাম রেখেছিলেন মুসলিম এবং এই কিতাবেও তোমাদের নাম মুসলিম। যাতে এই রাসুল তোমাদের জন্য সাক্ষী হতে পারেন। আর তোমরা সাক্ষী হতে পারো অন্যান্য মানুষের জন্য। সুতরাং নামাজ কায়েম করো, জাকাত আদায় করো এবং আল্লাহকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো। তিনিই তোমাদের অভিভাবক (তার সাহায্যের ওপর ভরসা করে জিহাদ ও মেহনত অব্যাহত রাখো)। আর তিনি কতই-না উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সহায়তাকারী।’ সুরা হজ : ৭৭-৭৮
বর্ণিত আয়াত দুটি থেকে মিল্লাতে মুসলিমার লক্ষ্যবস্তু কী এবং তাদের দায়িত্ব ও মর্যাদা এবং তাদের অস্তিত্বের উদ্দেশ্যই-বা কী সবই বলে দেওয়া হয়েছে। উম্মতের পদ নির্দেশ হিসেবে এই দুটি আয়াতই যথেষ্ট।