সাভারের আশুলিয়ায় একটি বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টাকালে ডাকাতের গুলিতে আবদুল কাদের (৫৮) নামের এক নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আশুলিয়ার কুটুরিয়া উত্তরপাড়া এলাকার আমির দেওয়ানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুল কাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি কুটুরিয়া এলাকার ‘নিট ২০০৭ লিমিটেড’ কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গতকাল ভোরে কুটুরিয়া এলাকার মজিবর দেওয়ানের ভাই আমির দেওয়ানের দোতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার পেছনের জানালার গ্রিল কেটে বাড়িতে প্রবেশ করে ডাকাত দলের তিন সদস্য। এ সময় আমির দেওয়ান বিষয়টি টের পেলে ডাকাতদের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আমির দেওয়ানের ছেলে অয়ন দেওয়ান বিষয়টি দেখে ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার শুরু করেন। অয়নের চিৎকার শুনে আমির দেওয়ানের ভাই মজিবর দেওয়ান পাশের ভবন থেকে বের হয়ে তার লাইসেন্স করা শটগান দিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়লে ডাকাতরাও পাল্টা গুলি ছুড়তে ছুড়তে বের হয়ে যায়।
‘নিট ২০০৭ লিমিটেড’ কারখানার মালিক ও আমির দেওয়ানের ভাতিজা মামুন দেওয়ান বলেন, আমার কারখানার তিনজন নিরাপত্তাকর্মী আমার বাড়ির সামনে রাতে পাহারা দেন। ডাকাতের কথা শুনে নিরাপত্তাকর্মীরা বাড়ির সামনে এগিয়ে গেলে ডাকাতরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যায়। এ সময় তাদের গুলিতে নিরাপত্তাকর্মী আবদুল কাদের চোখে গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কাদেরের মৃত্যু হয়।
এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডিউটি ম্যানেজার মো. ইউসুফ বলেন, ভোরে আবদুল কাদের নামের ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। তার মাথায় ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কিন্তু এসব আঘাতের চিহ্ন গুলির কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আশুলিয়া থানার ওসি এএফএম সায়েদ বলেন, কুটুরিয়া এলাকায় একটি বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টাকালে বাধার মুখে পড়লে ডাকাতদের ছোড়া গুলিতে একজন নিরাপত্তাকর্মী মারা গেছেন। ডাকাতদের আঘাতে আরও একজন সামান্য আহত হয়েছেন, তবে ডাকাতরা তেমন কিছু নিতে পারেননি। এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং নিহতের মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।