পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সড়কের পাশের খাস জমি উদ্ধারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহীনুর ইসলামের বিরুদ্ধে। তার নেতৃত্বেই রাস্তার পাশে রাতের বেলা নির্মিত হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা। আর তা উদ্ধারে গিয়ে বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছেন ভূমি অফিসের কর্মচারী আপন ইসলাম। তিনি উপজেলা ভূমি অফিসে গাড়ি চালক হিসেবে কর্মরত আছেন। সোমবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে এ ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার দিবাগত রাতে দেবীগঞ্জ পৌর শহরের চৌরাস্তা-সোনাহার সড়কের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের বিপরীত দিকে সড়কের পাশের খাস জমিতে দোকান ঘর নির্মাণ করা হয়। এছাড়াও দোকান ঘর নির্মাণের জন্য পিলার পুঁতে রাখা হয়। বিষয়টি সোমবার জানাজানি হলে ভূমি কর্মকর্তা অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ইউএনও শরীফুল আলমের নির্দেশে সদর ভূমি অফিসের কর্মকতা মুক্তার হোসেনসহ ভূমি অফিসে কর্মরত ১২ জনের একটি দল স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য যায়। ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর স্থাপনা উচ্ছেদে তাদের বাধা দেওয়া হয়।
এই সময় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বাধা দিতে প্রায় দেড়শর অধিক ব্যক্তি জড়ো হন। তারা সবাই ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মী। পরে এসি ল্যাণ্ড অফিসের কর্মচারীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে গাড়ি চালক আপন ইসলামকে শাবল দিয়ে মারতে আসে কয়েকজন। এ সময় অফিসের অন্যান্য কর্মচারীদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। পরে আপন পাশেই মিন্টুর দোকানে ফ্লেক্সিলোড নিতে গেলে সেখানে তার উপর দ্বিতীয়বার হামলা চালানো হয়।
ভুক্তভোগী আপন ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর 'এটা কি ইউএনও'র বাবার জমি, বেটারা বাড়ে গেছে' এমনটা শোনার পর আমি সামনে এগিয়ে গিয়ে এর প্রতিবাদ করি। তখন তারা আমাকে শাবল দিয়ে হামলা করতে আসলে অন্যান্যদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। পরে পাশেই এক ফ্লেক্সিলোড দোকানে গিয়ে ফ্লেক্সিলোড দেওয়ার সময় হুট করে এসে চেয়ার দিয়ে আমার উপর হামলা করে। এসময় আত্মরক্ষার্থে আমি চেয়ার ধরতে গেলে সবাই মিলে আমাকে মারধর করে।
অভিযোগ উঠেছে তারা সবাই কৃষকলীগ নেতা, দেবীগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাাফুল আলম এমু ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহীনুর ইসলামের নেতাকর্মী। ঘটনার সময় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি উপস্থিত ছিলেন এবং তার নেতৃত্বেই এসব ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা হামলায় অংশ নেন।
আশরাাফুল আলম এমু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি তো ভাই এখন কৃষকলীগের নেতা। একটু আগে ঘটনাটি শুনলাম।’উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহীনুর ইসলাম বলেন, আমি ঘটনায় সঙ্গে জড়িত নই এবং উপস্থিতও ছিলাম না।’
ইউএনও শরীফুল আলম বলেন, খাস জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের খবর পেয়ে তা উচ্ছেদে সেখানে ভুমি কর্মকতাকে পাঠানো হয়েছিল। তাদের সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। এ বিষয়ে আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা জানি। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।