‘এই জারত তোমরা আসি কম্বল দিলেন, আল্লাহ তোমার ভালো করুক’

‘এই জারে এডাই কাইও আসে নাই বাহে, তোমরা আসি কম্বল দিলেন, তোমাকগুলাক ধন্যবাদ।’ এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রামের নদীবেষ্টিত চর রাজীবপুর উপজেলার ঢুষমারা এলাকার প্রত্যন্ত মোহনগঞ্জ চরের বাসিন্দা সখিনা বেওয়া (৭০)।

চরের শুধু সখিনা বেওয়া নন, তার মতো সুরুজ ভান, কছভান ও আমেনা বেওয়ার মতো অনেকেই পুলিশের শীতবস্ত্র হাতে পেয়ে বলছিলেন, এত জারের মধ্যে হামার এডাই কাইও আসে নাই। আইজ পুলিশ আইসে কম্বল দেইল। হামরা খুব খুশি, হামরা ওমার জন্যে দোয়া করমো।

আজ সোমবার (১৫ জানুয়ার) জেলার চর রাজীবপুর উপজেলার ঢুষমারা এলাকার প্রত্যন্ত মোহনগঞ্জ চরের প্রায় ২০০ শতাধিক বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে সরকারের পক্ষে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম।

হাড়-কাঁপানো এই শীতে শীতবস্ত্র পাওয়ার তালিকায় ছিলেন বয়স্ক, প্রতিবন্ধীসহ এলাকার পিছিয়েপড়া মানুষ। শীতবস্ত্র বিতরণের পাশাপাশি স্কুলগামী ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মিষ্টি ও চকলেটও বিতরণ করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ধারাবাহিকভাবে এই শীতে বিভিন্ন এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণ করছে। আমরা আজ কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত চরের মোহনগঞ্জের মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে ভালো ফিল করছি। সাধ্য মতো আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।

জেলা পুলিশ কুড়িগ্রামের শীতবস্ত্র বিতরণকালে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. রুহুল আমীন, উলিপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম, উলিপুর সরকারি কলেজের উপাধ্যাক্ষ যোবায়ের আল মুকুল, রাজিবপুর থানার ওসি মো. আশিকুর রহমান পিপিএম, টিআই সদর ট্রাফিক বানিউল আনামসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।