শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে যশোরের বোরো বীজতলা। বীজতলা রক্ষা করতে কৃষক রাতে ক্ষেত পলিথিন দিয়ে ডেকে রাখছেন।
যশোরে কুয়াশার দাপট বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কমছে তাপমাত্রা। যশোরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমান বিমানঘাঁটি নিয়ন্ত্রিত আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার যশোরে তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বৃহস্পতি ও গতকাল রবিবার কুয়াশার ঘনত্বে দেখা মেলেনি সূর্যের। এদিকে বোরো ধানের বীজতলায় চারা সবেমাত্র বড় হতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে শীত ও কুয়াশার কারণে নষ্ট হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে বীজতলা।
সদর উপজেলার শেখহাটি গ্রামের কৃষক কামরুল ইসলাম জানান, গত কয়েক দিনের কুয়াশার কারণে ধানের চারা হলুদ হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় তারা রাতে পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখছেন। তিনি বলেন, শীত ও ঘন কুয়াশা যদি আরও বাড়তে থাকে তাহলে বীজতলা কোল্ড ইনজুরি থেকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, শীত ও কুয়াশা তীব্র হলে অর্থাৎ তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নামলে ধানের চারা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে থাকে। তবে যশোরে এ মুহূর্তে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির ওপরে আছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, যশোরে এ মুহূর্তে ৭৫ হেক্টর জমিতে বিশেষ প্রযুক্তিতে ট্রেতে করে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এসব বীজতলা ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা নেই। বাকি সাধারণ পদ্ধতিতে যে বীজতলা করা হয়েছে, সেগুলোকে শীত-কুয়াশার কবল থেকে রক্ষা করতে
কৃষককে দিনের বেলায় ক্ষেত থেকে পানি সরিয়ে রাতে সেচ দেওয়াসহ সূর্য না ওঠা পর্যন্ত পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার জন্য কৃষককে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে যশোরে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ হেক্টর। এর মধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার উফশী জাতের ও হাইব্রিড জাতের ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টর। ইতিমধ্যে কৃষক ৮ হাজার ৭৩ হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করেছে। এর মধ্যে উন্নত পদ্ধতিতে ট্রেতে করে বোরোর বীজতলা করা হয়েছে ২৫ হেক্টরে।