কম জন্মহারের রেকর্ড

টানা দ্বিতীয় বছরেও কমলো চীনের জনসংখ্যা

টানা দ্বিতীয় বছরের মতো কমলো চীনের জনসংখ্যা। ২০২৩ সালে দেশটির জনসংখ্যা ২০ লাখেরও বেশি কমেছে পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে।

মূলত জন্মহার রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়া এবং করোনাভাইরাসে মৃত্যুর কারণে জনসংখ্যা কমেছে বলে জানিয়েছে দেশটি। বুধবার (১৭ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী ২০২৩ সালের শেষে চীনের জনসংখ্যা ছিল ১৪০ কোটি ৯৬ লাখ ৭০ হাজার। ২০২২ সালে যে জনসংখ্যা ছিল, তার তুলনায় ২৩ সালের জনসংখ্যা ২০ লাখ ৮০ হাজার কম ছিল।

পরিসংখ্যান ব্যুরো আরও জানায়, ২০২৩ সালে দেশটিতে জন্মহার ছিল প্রতি হাজারে ছয় দশমিক ৩৯। ২০২৩ সালে চীনে ৯০ লাখ ২০ হাজার শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। এর আগের বছর এই সংখ্যাটি ছিল ৯৫ লাখ ৬০ হাজার।

এর আগে চীনে ২০২২ সালে আগের বছরের তুলনায় জনসংখ্যা কমেছিল ৮ লাখ ৫০ হাজার। এদিকে জনসংখ্যা ক্রমাগত কমতে থাকায় গত বছরই চীনকে টপকে জনসংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বের এক নম্বর দেশ হয়েছে ভারত।

রয়টার্স বলছে, এর আগে সর্বশেষ চীনের জনসংখ্যা কমেছিল ১৯৬০ সালে। ওই বছর মাও সে তুংয়ের বিপর্যয়কর কৃষি নীতি “গ্রেট লিপ ফরওয়ার্ডের” কারণে দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছিল দেশটির মানুষ।

১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশ চীনে বর্তমান জন্মহার রেকর্ড পরিমাণ কম। আর এ কারণে দিন দিন কমছে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, জন্মহার কমের বিষয়টি চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে কোণঠাসা করে দিতে পারে।

মূলত জনসংখ্যা বিস্ফোরণের ভয়ে ১৯৮০ সালে চীন বিতর্কিত “এক শিশু” নীতি গ্রহণ করে। এ ছাড়া দ্রুত নগরায়ণ ও জীবন-যাপন ব্যয়বহুল হয়ে উঠায় দেশটিতে কয়েক দশক ধরেই জন্মের হার কমে এসেছে।

তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে ২০১৬ সালে ‘এক শিশু’ নীতি পরিহার করে দেশটি। বর্তমানে অঞ্চলভেদে চীনে কোনো দম্পতি চাইলে তিন ছেলে-মেয়েও নিতে পারবেন। তবে এ বিষটি জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে খুব বেশি প্রভাব রাখতে পারেনি।

জীবনমানের খরচ বৃদ্ধি, বেশিরভাগ নারীর কর্মক্ষেত্রে যাওয়া এবং উচ্চশিক্ষার প্রতি ঝোঁক থাকার বিষয়গুলো জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি ধীর করে দিয়েছে।

তবে চীন দাবি করেছে, তাদের অর্থনীতির বৃদ্ধি হয়েছে। গত বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এই তিন মাসে জিডিপি বৃদ্ধির হার বেড়ে হয়েছে ৫.২%। করোনাভাইরাসের কড়াকড়ি তুলে নেওয়ার পর চীনের আর্থিক বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫%।