গাজীপুরের শ্রীপুরে একই পরিবারের শারীরিক প্রতিবন্ধী দুই বোন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। উপজেলা বরমী ইউনিয়নের দুর্ভলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত সোমবার শ্রীপুর থানায় কাজল (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে মামলা করে ভুক্তভোগী দুই শিশুর বাবা। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে।
অভিযুক্ত কাজলের বাড়ি পাশের পাগলা থানার চাকুয়া গ্রামে। তিনি দুর্ভলপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন।
পুলিশ বলছে, ধর্ষণের অভিযোগ পেয়েই অভিযুক্তকে ধরতে পুলিশ কাজ শুরু করে। ধর্ষণে শিকার প্রতিবন্ধী এক শিশুকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিবার দুই শিশু ধর্ষণে শিকার দাবি করলেও প্রাথমিক তদন্তে একটি শিশু ধর্ষণে কথা শিকার করেছে। অভিযুক্তকে আজ বুধবার দুপুরে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, বই কলম ও পাকা বরই দেওয়ার কথা বলে কৌশলে প্রথমে বড় মেয়েকে ধর্ষণ করে। পরে একই কৌশলে ছোট মেয়েকেও ধর্ষণ করে ওই ব্যক্তি।
স্বজনরা জানান, ধর্ষণের শিকার দুই শিশুসহ তারা তিন বোন। তারা তিন বোনই শারীরিক প্রতিবন্ধী। তাদের বাবা ফেরিওয়ালা। গ্রামে গ্রামে ঘুরে ফেরি করে কাপড় বিক্রি করেন তিনি। ছোট দুই মেয়েকে এক সময় পাশের একটি কেজি স্কুলে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু স্কুলে নানা বৈষম্যের কারণে তারা স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। বাড়ি থাকার সুযোগে পাশের বাড়ির পাহারাদার কাজল মিয়া ওই বাড়িতে ডেকে নিয়ে কৌশলে তাদের ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত কাজল মিয়া এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
শিশুদের বাবা জানান, চলতি মাসের শুরুর দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনের ঝামেলার কারণে সবার পরামর্শে মামলা করতে একটু দেরি করেছি। নির্বাচন শেষ হলে এ বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছি।
তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী হলেও তারা বই-কলমের পাগল ছিল। যে কেউ বই-কলম-খাতা দিলে তার সঙ্গে সখ্যতা বাড়ে তাদের। তারা দুই বোন এক সঙ্গে থাকে। আর অভিযুক্ত কাজলকে তারা মামা বলে ডাকে। তার সঙ্গে তাদের ভালো সম্পর্ক। সে সুযোগে বই-কলম-খাতা ও পাকা বরই দেওয়ার কথা বলে একাধিকবার ধর্ষণ করে। প্রথমে বড় মেয়েকে ধর্ষণ করে। এর পর কৌশলে ছোট মেয়েকে ধর্ষণ করে। ছোট মেয়েটা তার মাকে বিষয়টি জানালে বড় মেয়ের ব্যাপারটাও বের হয়ে আসে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার বেক্কল দুইডা ঝিয়েরে (মেয়ে) পাষণ্ড কি নির্যাতনডাই না করলো। আমি উপযুক্ত বিচার চাই।’
বরমী ইউনিয়নে ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য রনি আকন্দ জানান, দুই তিন আগে ধর্ষণে শিকার শিশুর বাবা আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তার দুটি মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। পরে তাকে দ্রুত আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ধর্ষণে শিকার দুটি শিশুই শারীরিক প্রতিবন্ধী। এ ঘটনায় পুলিশ একজনেক গ্রেপ্তার করেছে।
শ্রীপুর মডেল থানার পরিদর্শ (তদন্ত) শাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়েছি একটি প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণে শিকার করেছে অভিযুক্ত। তার স্বাস্থ্যের পরীক্ষার জন্য তাকে গাজীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।