ডুবে যাওয়া ফেরির ইঞ্জিন চালকের খোঁজ মেলেনি

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটের পাটুরিয়া প্রান্তের ৫ নম্বর ঘাটে ফেরিডুবির ঘটনায় এক দিন পার হলেও উদ্ধার করতে পারেনি নিখোঁজ দ্বিতীয় ইঞ্জিনচালক হুমায়ন কবিরকে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত তিনটি ট্রাক উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ।

গত বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রজনীগন্ধা নামে ছোট ফেরিটি ছিদ্র হয়ে পানি উঠে ডুবে যায়। ফেরি ডোবার এক দিন পার হলেও নয়টি ট্রাকের মধ্যে সাতটি ট্রাক উদ্ধার করতে পেরেছে নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা। উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এসেছে পাটুরিয়ায়। আর প্রত্যয় বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে আসতে পারেনি। হামাজা বুধবার দুটি ট্রাক আর গতকাল দুপুরে দুই উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ও রুস্তম দুপুরে একটি ট্রাক উদ্ধার করতে পেরেছে। ডুবন্ত ফেরি থেকে ২০ জনকে উদ্ধার করতে পারলেও দ্বিতীয় ইঞ্জিনচালক হুমায়নকে উদ্ধার করতে পারেনি।

নিখোঁজ হুমায়ন কবিরের ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, ফেরিডুবির ঘটনার এক দিন পার হলেও আমার ভাইয়ের কোনো হদিস পাচ্ছি না। সে বেঁচে আছে নাকি মৃত্যু হয়েছে সেটাও বলতে পারছেন না কেউ।

শহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, আমার চামড়াবাহী ট্রাক নিখোঁজ হয়েছে। ফেরিডুবির এক দিন পার হলো। অথচ আমার ট্রাকটি উদ্ধার করতে পারল না। এতে আমার চামড়া পচে গেছে নিশ্চিত। আমার ১৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ট্রাকচালক মজনু মিয়া বলেন, আমার মালিকের ট্রাক বুধবার উদ্ধার হলেও আমার ট্রাক ঠিক হয়নি। ঠিক না হলে আমি রাস্তায় নামতে পারব না।

মানিকগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘রজনীগন্ধা ফেরিটি যেহেতু ছোট ফেরি, আর ফেরিটি সম্পূর্ণ উল্টে গেছে, তাই নিখোঁজ ইঞ্জিনচালক হুমায়নকে শনাক্ত

করতে পারিনি।

কেন এত দেরি হচ্ছে তাকে খুঁজতে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও বলেন, আসলে ফেরির ভেতরে কেবিন রয়েছে। ইঞ্জিন রুম হয়েছে কোথায় মিসিং হতে পারে। আমরা ফেরির কারণেই এখনই সার্চ দিয়ে শনাক্ত করতে পারছি না।’

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট শাহপরান ইমন বলেন, আসলে রাতারাতি ফেরি এবং ট্রাক উদ্ধার করা সম্ভব না। ওপরে থেকে ফেরি আর ডুবন্ত ফেরি কিন্তু এক না। খুব দ্রুত কাজ করতে গেলে আবার নতুন করে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর নিখোঁজ হুমায়নের উদ্ধার করার জন্য আমাদের ডুবুরি দল এখনো কাজ করছে।