উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত আগামীকাল শনিবার থেকে পুরোদমে চালু হচ্ছে মেট্রোরেল সেবা। সকাল সাতটা ১০ মিনিটে উত্তরা থেকে মেট্রোরেল ছাড়বে, আর শেষ ট্রেন মতিঝিল থেকে ছেড়ে যাবে রাত আটটা ৪০ মিনিটে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সকাল সাতটা ১০ মিনিট এবং সকাল সাতটা ২০ মিনিটে উত্তরা উত্তর মেট্রোরেল স্টেশন থেকে দুইটি ট্রেন মতিঝিলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। ওই দুইটি ট্রেনে সকালে ওঠার সময় অবশ্যই এমআরটি বা র্যাপিড পাস ব্যবহার করতে হবে। অপরদিকে মতিঝিল থেকে সকাল সাড়ে সাতটা থেকে ট্রেন চলবে।
সবশেষ রাত ৮টা ১০, ২০, ৩০ ও ৪০ মিনিটে চারটি মেট্রো ট্রেন মতিঝিল থেকে ছেড়ে উত্তরা উত্তর স্টেশন পর্যন্ত আসবে। এই চারটি ট্রেনেও শুধুমাত্র এমআরটি বা র্যাপিড পাস ব্যবহার করতে হবে। তবে কেউ যদি ৭টা ৪৫ মিনিটের আগে টিকেট কিনে থাকেন তিনিও ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাত সাতটা ৪৫ থেকে সকল ধরনের টিকেট বিক্রি বন্ধ থাকবে।
যেভাবে করবেন এমআরটি পাস
ডিএমটিসিএল-এর ওয়েবসাইট (dmtcl.gov.bd) থেকে বা মেট্রোরেল স্টেশন থেকে ফরম সংগ্রহ করতে হবে। সেটি পূরণ করে মেট্রোরেলের টিকিট কাউন্টারে জমা দিলেই পাওয়া যাবে এমআরটি পাস কার্ড।
নিবন্ধন করতে নিজের নাম, মাতা-পিতার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা পাসপোর্ট নম্বর, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল আইডি লাগবে। সকল স্টেশন থেকে সকাল সাতটা ১৫ থেকে রাত সাতটা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এমআরটি পাস কেনা যাবে।
এমআরটি পাসের খরচ কতো?
এমআরটি কার্ড নিতে হলে খরচ হবে ৫০০ টাকা। এরমধ্যে ২০০ টাকা কার্ডের জামানত হিসেবে থাকবে, যা কার্ড জমা দিলেই ফেরত পাওয়া যাবে। বাকি ৩০০ টাকা ব্যালেন্স থাকবে যা দিয়ে ট্রেনে যাতায়াত করা যাবে।
যে কোনো স্টেশনের টিকিট কাউন্টার থেকে কার্ডে টাকা রিচার্জ করা যাবে। টিকিট বিক্রির মেশিনেই টপ আপ অপশন রয়েছে। যেখান থেকে সহজেই টাকা দিয়ে রিচার্জ করে নেওয়া যাবে।
এমআরটি ও র্যাপিড পাসের পার্থক্য কী
এমআরটি পাস হলো নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন বা কম দূরত্বের যোগাযোগ। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ভিত্তিক একটি সংযোগবিহীন স্মার্ট আইসি কার্ড। এই কার্ড দিয়ে ঝামেলাবিহীনভাবে অতি সহজে মেট্রোরেলের (ভবিষ্যতে বাস, লঞ্চ, মেট্রোরেল কর্তৃক পরিচালিত শপিংমল ইত্যাদির বিল) ভাড়া পরিশোধ করা যায়।
অপরদিকে র্যাপিড পাস হলো জাপানের সনি কোম্পানির তৈরি একটি নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন বা কম দূরত্বের যোগাযোগের সর্বাধুনিক স্মার্ট কার্ড। বাংলাদেশের গণপরিবহনের সমন্বিত ই-টিকেটিং (এক কার্ডে সব যোগাযোগ) ব্যবস্থা প্রবর্তন ও ভাড়া আদায়ের লক্ষ্যে এটিকে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্মার্ট কার্ড বা র্যাপিড পাস প্রচলন করা হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন গণপরিবহন যেমন- ঢাকা মেট্রোরেল, বাস র্যাপিড ট্রানজিট, বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিসি’র নৌ-যান সার্ভিস, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন বাস সার্ভিসে স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরবিচ্ছিন্নভাবে যাতায়াতে ঝামেলাহীন পেমেন্ট সুবিধা পেতেই র্যাপিড পাস সিস্টেম।
এমআরটি পাস কিংবা র্যাপিড পাসে খুব একটা পার্থক্য নেই, প্রায় একই সুবিধা পাওয়া যাবে। একজন ব্যক্তি চাইলে একাধিক কার্ড ইস্যু করতে পারবে তবে একটি পরিচয়পত্রের বিপরীতে একটি কার্ড নেওয়াই উত্তম।