সব মাধ্যমকেই সমান গুরুত্ব দিই

দিলশাদ নাহার কনা। মিষ্টি কণ্ঠের মেয়েটি গান গাইছেন প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে। সব মাধ্যমে গান গাওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন শীর্ষ নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী বা ভয়েস ওভার আর্টিস্ট। চুটিয়ে গান করছেন নাটক, সিনেমা আর এককে। শশব্যস্ত এই পেশাদার সুকণ্ঠী শিল্পীর সঙ্গে কথা বলেছেন ইমরোজ বিন মশিউর। 

সুকণ্ঠী কনা

তাকে বলা হয় এ প্রজন্মের অন্যতম সুকণ্ঠী শিল্পী। এটা তার ভক্তদের কমপ্লিমেন্ট। তবে এ কথা মানতে নারাজ তিনি। বললেন, ‘ছোটবেলায় যখন গান শিখেছি তখন প্রায়ই আমাকে ওস্তাদজিরা বলতেন মেয়েটির গলা বেশ মিষ্টি। পরেও অনেকে বলেছেন, এখনো বলেন। তবে আমি ওভাবে কখনো ভাবিনি। আর গান যেহেতু গাই, নিয়মিত চর্চা করি। গলায় কিছু একটা তো আছেই যার জন্য মানুষ এখনো আমার গান শোনেন।’

নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী

২০০০ সাল থেকে জিঙ্গেল করছেন কনা। বললেন, ‘ওই সময় জিঙ্গেল-বেইসড টিভিসি হতো। এখন খুব একটা হয় না। অনেকেই জানেন না- আমি কিন্তু চাহিদাসম্পন্ন (এবং জনপ্রিয়) ভয়েস ওভার আর্টিস্ট বা নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী। প্রায় ১৮ বছর ধরে আমি ভয়েস ওভার দিই। আমি দুই মাধ্যমেই (জিঙ্গেল ও ভয়েস ওভার) কাজ করি। কিন্তু গত ১০ বছরে আমি যত ভয়েস ওভার দিয়েছি, ঠিক ততটাই কম জিঙ্গেলে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। এটার কারণ হতে পারে, জিঙ্গেলে আমার চাহিদা কমেছে বা নতুনরা আমার থেকে ভালো করছে। আর একটা কারণ, এখন ভয়েস ওভার-বেইসড টিভিসি বেশি হচ্ছে।’

নতুন গানের খবর

এ মাসে এখন পর্যন্ত তিন-চারটি গান গেয়ে ফেলেছেন কনা। ‘ইদানীং সিনেমার গান তো হয়ই, সেই সঙ্গে নাটকের গানেরও চল বেড়েছে। নাটকের গানের একটা ভালো ইন্ডাস্ট্রি দাঁড়িয়ে গেছে। নাটকের জন্য আলাদা গান রেকর্ড হয়, সেগুলো ভালো চিত্রায়ণও হয়। ইউটিউবে ভালোভাবে প্রচারও হয়। নাটকের গান হচ্ছে প্রচুর, আমিও করছি। সিনেমার গান আর একক বা ডুয়েট করছি। অনেক গান নিয়ে কথা হচ্ছে। সামনে আরও অনেক কাজ আসবে। আমি কখনো আমার অনুরাগীদের নিরাশ করিনি, আশা করি ভবিষ্যতেও করব না।’

ফেব্রুয়ারিতে অনেক গান অবমুক্ত হবে জানিয়ে কনা বললেন, তবে অ্যালবামের কাজ নিয়ে এখন ভাবছি না। প্রশ্ন রাখেন- টিকটকের যুগে পুরো একটা অ্যালবাম নিয়ে কীভাবে ভাবব বলেন? তবে একদিন ভক্তদের কথা মাথায় রেখে আমিও হয়তো আরও অ্যালবাম করব।

সিনেমার গান নিয়ে ভাবনা

‘প্রতিটা মাধ্যমের গানই আলাদা। সিনেমা, নাটক বা একক গান। প্রতিটা জায়গা আলাদা। আর একটা কথা- আমার ডেডিকেশনটা কিন্তু সব ক্ষেত্রেই এক। একটা ১০ সেকেন্ডের জিঙ্গেলের জন্য যা একটা বিগ বাজেটের সিনেমার গানের জন্যও ততটুকুই থাকে। আমি সব কাজ সমান অনুভূতি নিয়ে করি।’ গত দু-তিন বছরে সিনেমার গান অনেক বদলেছে জানিয়ে কনা বলেন, ‘আশা করি সিনেমার গান আরও ভালো অবস্থানে যাবে। গত বছর সিনেমার গানগুলো মানুষের মুখে মুখে ফিরেছে।’

আমাদের গল্প

এবার কনার সংসারের গল্প। স্বামী-সংসার নিয়ে খুব একটা আদিখ্যেতা নেই তার। বললেন- ‘ও ওর কাজ নিয়ে থাকে আর আমি আমার কাজ নিয়ে। আমরা কেউ কারও প্রফেশনের স্পেসে এন্ট্রি নিই না। এটাই আমার সংসারের গল্প। আর একটা কথা- আমরা ভালো আছি। আর সোশ্যালে নিজের সংসার নিয়ে খুব বেশি মাতামাতি নেই আমার। শুধু জন্মদিন বা বিবাহবার্ষিকীতে দু-একটা ছবি। ভালো থাকাটাই আসলে গুরুত্বপূর্ণ, সেটা প্রকাশ করা নয়।’