মো. আলাউদ্দিন চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড পৌরসভার পন্থিছিলা এলাকার বাসিন্দা। থাকেন সৌদি আরবে। তার মাসে আয় প্রায় এক লাখ টাকা। বাড়িতে আছেন মা, স্ত্রী ও কন্যা। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের জন্য পাঠান না একটি টাকাও। পাঁচ বছর ধরে বাধ্য হয়ে ৭০ বছর বয়েসী মা দেলোয়ারা ভিক্ষা করেন।
স্বজন ও স্থানীয়রা বলছেন, আলা উদ্দিনের এমন স্বভাব ও বিভিন্ন অপকর্মের কারণে তাকে সমাজচ্যুত করা হয়েছে।
জানা গেছে, এর আগে, প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বর্তমান স্ত্রীকে বিয়ে করে ঘরে তুলেন আলাউদ্দিন। সেই ঘরে তার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। যার বয়স পাঁচ বছর। এই সন্তান জন্মের আগেই বিদেশে পাড়ি দেন আলাউদ্দিন। এরপর গত ছয় বছর ধরে পরিবারের সদস্যদের জন্য পাঠাননি এক টাকাও।
দেলোয়ারা পাঁচ বছর ধরে ভিক্ষাবৃত্তি করেই ভরণ-পোষণ চালিয়েছেন নিজের, ছেলের বউ ও নাতনির। অথচ বয়সের ভারে হাঁটতেও কষ্ট হয় তার। অসুস্থ শরীরে সীতাকুন্ডের বিভিন্ন এলাকায় ক্লান্ত পায়ে হেঁটে মানুষের দ্বারে-দ্বারে যাচ্ছেন। এভাবে সারা দিনে ভিক্ষা করে যা পান তা দিয়ে নিজে চলেন এবং পুত্রবধূ ও নাতনিকে কিছু সহযোগিতা করেন।
গত বুধবার দেলোয়ারার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। এ বয়সে কেন ভিক্ষা করছেন এমন প্রশ্ন করতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন দেলোয়ারা। তিনি বলেন, ‘আমার আপন বলতে একমাত্র ছেলে মো. আলাউদ্দিন। সে এখন সৌদি আরব থাকে। মাসে ৯০ হাজার টাকা বেতন পায়। তবে গত ৬ বছর ধরে একটি টাকাও দিচ্ছে না। শুধু আমার নয়; তার স্ত্রী ও একমাত্র মেয়ের জন্যও কোনো খরচাপাতি দেয় না।’
দেলোয়ারা বলেন, ‘কয়েক বছর আগে সে ফোন করে তৃতীয় স্ত্রীকে তালাকের ব্যবস্থা করতে আমাকে চাপ দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় আমাকে গালিগালাজ করে। দীর্ঘদিন খরচপাতি না দেওয়ায় বর্তমান স্ত্রীও বাবার বাড়ি গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে, পাঁচ বছর ধরে ভিক্ষাবৃত্তি করে তাদের (ছেলের স্ত্রী ও নাতনি) ভরণ-পোষণ চালিয়েছি। এখন নিজের জন্য বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভিক্ষা করতে হচ্ছে।’
স্ত্রী নার্গিস আক্তার বলেন, ‘বিদেশ গিয়েই সে আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। শুনেছি সে আমার আগেও দুটি স্ত্রীর সঙ্গে একই ঘটনা ঘটিয়েছিল।’
সমাজের সর্দার মফিজুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান স্ত্রীকে তালাক দিতে আমাকে ফোন দেয় আলাউদ্দিন। আমি তাকে দেশে এসে যা করার করতে বলেছি। বিভিন্ন অপকর্মের কারণে তাকে আমরা সমাজচ্যুত করেছি।’