প্রায় এক দশক ধরে প্রধান শিক্ষকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রেখেই চলছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ৬৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে সহকারী শিক্ষক দিয়েই করানো হচ্ছে প্রধান শিক্ষকের সব কাজ। দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলো অনেকটাই অভিভাবক শূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে সুষ্ঠু শিক্ষা কার্যক্রম। এ সব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদগুলো দ্রুত পূরণ করা দরকার বলে মনে করছেন শিক্ষক, অভিভাবক এবং সচেতন মহল।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা যায়, ফটিকছড়িতে ২২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৬৫টিতে প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। বাকি ৬৪টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। এর মধ্যে ১৩ জন প্রধান শিক্ষকের পদমর্যাদা নিয়ে মামলা চলছে। অন্যদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষকদের পদ আছে ১ হাজার ৩২৭টি। এখানেও শূন্য পদ আছে ১১০টি।
১৩ জন প্রধান শিক্ষকের পদমর্যাদা নিয়ে মামলার বিষয়ে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহেদুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘১ জানুয়ারি ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়গুলোতে যারা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে ছিল, তাদের সহকারী শিক্ষকের গ্রেড দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় প্রধান শিক্ষকের মর্যাদা এবং গ্রেডের জন্য তারা মামলা করে, যা এখনো চলছে।’
জানা যায়, ২০১৩ সালে এ উপজেলায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সরাসরি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর গত এক দশকে মাত্র চারজন প্রধান শিক্ষককে নন-ক্যাডার থেকে সরাসরি প্রধান শিক্ষকের পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই চারজনের মধ্যে আবার দুজন চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন এবং একজন ক্যাডার পদে যোগদান করবেন। ফলে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই বিদ্যালয়গুলো চলছে এক দশক ধরে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে পাঠদানের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ, শ্রেণিকক্ষ পর্যবেক্ষণ, সভা-সেমিনারে অংশ নেওয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হয়।
দক্ষিণ রাঙ্গামাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি একরামুল হক বলেন, ‘একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল দায়িত্ব পালন করেন প্রধান শিক্ষক। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কিছু সময়ের জন্য হয়। কিন্তু আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভারপ্রাপ্ত দিয়ে স্কুল চলছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা নিয়ম মেনে চলেন না। আরও অনেক সমস্যা হয়। প্রধান শিক্ষকের জন্য কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা হয়নি।’ ফটিকছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাসানুল কবির বলেন, ‘সহকারী শিক্ষকদের দ্বারা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করাতে হলে কিছু সমস্যা তো থেকেই যায়। প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’