গত ১৭ জানুয়ারি (বুধবার) খাদ্যমন্ত্রী সাধারণ চন্দ্র মজুমদার বলেছিলেন, ‘আগামী চার দিনের মধ্যে চালের দাম কমাতে হবে। যেভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে সেভাবেই কমাতে হবে দাম।’
এরপর কিছুটা নড়েচড়ে বসে খাদ্য মন্ত্রণলয়সহ সংশ্লিষ্টরা। একাধিক অভিযান চালানো চালের গুদামে। জরিমানা করা হয়ে একাধিক গুদাম মালিককে। তবে ফল প্রায় আগের মতোই। মন্ত্রীর নির্দেশের তিন দিন পার হলেও এখনো খুচরা বাজারে কমেনি চালের দাম।
এ বছরের শুরুতেই মিলার পর্যায়ে বস্তা প্রতি চালের দাম বেড়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মতো। জাতীয় নির্বাচনের পর পর চালের দাম হুট করেই কেজিপ্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা বেড়ে যায়। এরপর খাদ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জোর তৎপরতা শুরু করে এরপর খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মিলার পর্যায়ে অনেক আলোচনার পর বর্তমানে কমানো হয়েছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা। তবে কমানোটাও অদৃশ্য। কারণ বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে কমেনি চালের দাম।
সরকারি সংস্থা টিসিবির ওয়েবসাইটে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ শনিবার ঢাকার বিভিন্ন বাজারে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০-৫২ টাকা। এ ছাড়া চিকন চাল প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬২ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে। সেই হিসেবে আগের সপ্তাহের চেয়ে দুই টাকা বেশি দরে কিনতে হয়েছে।
তবে পাইকারি বাজারে দাম কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন পাইকাররা। ৬৮ টাকা কেজি দরের মিনিকেট কেজিতে এক টাকা কমেছে। নাজিরশাইল কেজিতে দুই টাকা কমে এখন ৬৩ টাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। ৪৯ টাকা থেকে ৪৭ টাকায় নেমেছে স্বর্ণা।
আজ শনিবারও রাজধানীর উত্তর বাড্ডা এলাকার চালের পাইকারি আড়তে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অভিযান চালিয়েছে। অভিযানের পর মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ড. জয়নাল আবেদিন বলেন, দোকানগুলোতে আমরা দেখেছি নতুন দামে এখনো চাল আসেনি। দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে কমানো দামে চাল পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। দোকানদাররা তাদের ক্রয়ের দাম দেখিয়েছেন। সে দাম অনুসারে তারা ৩০-৪০ টাকা লাভ করছেন। তবে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে দাম আরও কমানো না হলে জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বিক্রেতারা বলছেন, পুরোনো দামে চাল কেনা থাকায় নতুন করে দাম কমলেও সেই দামে কেনা চাল তাদের হাতে এখনো আসেনি। এতে বাড়তি দামেই চাল বিক্রি করছেন তারা।