বিয়ের খাবার খেয়ে শতাধিক ব্যক্তি হাসপাতালে

বিয়ের অনুষ্ঠানের খাবার খেয়ে বিষক্রিয়ায় নারী ও শিশুসহ অসুস্থ হয়ে পড়েছে শতাধিক ব্যক্তি। গত শুক্রবার দুপুরে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের চরমান্দারি ইউনিয়নের চরমান্দারি গ্রামের তফাদার বাড়িতে খাবার খাওয়ার পর একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ে তারা।

অসুস্থদের মধ্যে ২৫ জনকে ঘটনার দিন রাতেই লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তার মধ্যে ৫ জন পুরুষ, ১১ জন নারী ও ৯ জন শিশু। তারা সবাই রায়পুর উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের কেরোয়া গ্রামের বাসিন্দা। অসুস্থ অন্যরা ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর ও মতলবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।

জানা গেছে, রায়পুরের কেরোয়া গ্রামের বসু পাটওয়ারী বাড়ির মো. মানিকের সঙ্গে ফরিদগঞ্জের চরমান্দারি গ্রামের তফাদার বাড়ির মৃত তোফায়েল আহমেদের মেয়ে তারিনের বিয়ে হয়। বরযাত্রী পুরুষ-নারী ও শিশুরা তফাদার বাড়ির খাবার খান। সেখান থেকে বাড়ি ফিরেই একে একে সবাই বমির পাশাপাশি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এরপরই তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

রায়পুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীনরা হলো তছলিম উদ্দিন পাটওয়ারী (৭০), সোহাগ (২৪), রাব্বি হাছান (৪), ফাইজা (৩), আয়েশা (২৫), শাহাআলম (৬০), তানজিনা (২০), তাজনিন (৪), আনাস (২), নাজিফা (৬), নাছিমা (১), নুসরাত জাহান (১৫), শিউলী আক্তার (৪৫), আহাদ ইসলাম (১), সুলতানা রাজিয়া (২৮), ছাদিয়া (১২), ফাতেমা (৩৫), ভুট্টো পাটওয়ারী (৫৬), নুরজাহান (৫৫). রায়হান (১৬), তাছলিমা আক্তার (৩৫), রুবি (২৮), আনোয়ার (৫০), আফরোজা (২৪) ও আলিফা (৭)। তারা রায়পুর উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের কেরোয়া গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

বরের বড় ভাই মো. মাসুম পাটওয়ারী (৩০) বলেন, ‘সম্ভবত দই থেকে বিষক্রিয়া হয়েছে। অসুস্থদের চিকিৎসা চলছে। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অতিথিদের সবাই কম বেশি অসুস্থ হয়েছে। এ ঘটনার পর আমাদের বাড়িতে আজকে (গতকাল শনিবার) দুপুরের বৌভাত অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়েছে।’

কনের মামা মো. আজহার ভূঁইয়া বলেন, ‘অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০০ অতিথি খাবার খেয়েছে। এদের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তি খাদ্যে বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। তাদের রায়পুর, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর ও মতলবে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতেই রয়েছে। তবে একই খাবার খাওয়া অন্যরা সুস্থ রয়েছে।’

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, ‘খাদ্যে বিষক্রিয়ায় এমনটি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে। এরপরও খাবারের নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হলে নিশ্চিত কারণ জানা যাবে। ভর্তি হওয়া ২৮ জনকে আমাদের সাধ্যমতো আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। তারা আশঙ্কামুক্ত হওয়ায় কাউকে অন্যত্র রেফার করা হয়নি।’