দৈনিক মজুরিতে কখনো মাটি কাটেন, কখনো বাড়িঘর মেরামতের কাজ করেন এনামুল হক। স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে নিয়ে ঠাকুরগাঁও শহরের বাহদুরপাড়ায় থাকেন। চারজনের পরিবারে মাসে খরচ ১৫ হাজার টাকার মতো। অথচ গত চারদিন ধরে কাজ পাচ্ছেন না। শহরের পুরনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কাজের সন্ধানে এসে ঘুরে যাচ্ছেন।
এনামুল জানান, গেল ডিসেম্বর মাসে থেকে চলেছে এমন অবস্থা। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীর কাছে ধারদেনা আর দোকান থেকে বাকিতে পণ্য কিনে কোনোমতে দিন পার করছেন তিনি। এনামুল বলেন, দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরিতে কাজ করলেও, প্রতিদিন কাজ জোটে না। তাই প্রতিমাসে অন্তত ১৫ দিন বেকার বসে থাকতে হয় তাকে। শীত বেড়ে যাওয়ার কারণে কাজ জুটছে না তার। গতকাল শনিবার সকালে শহরের পুরনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এমন কষ্টের কথা জানান এনামুল। শুধু এনামুলই নন, কাজের আশায় প্রতিদিন তার মতো বসে থাকছেন ভবেশ বর্র্মণ, রবিন বর্মণ, সুনীল চন্দ্র রায়সহ অন্তত ৫০ শ্রমিক। সকাল সাড়ে ৮টায় এসে বসে থাকেন কাজের জন্য। সাড়ে ১০টার মধ্যে কাজ না জুটলে ফিরে যান টুকরি, কোদাল সামনে রেখে বসে থাকা এই দিনমজুররা।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মিলনপুর সংলগ্ন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার দেউলী গ্রামের শুনীল চন্দ্র রায় বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার ৬০০ টাকা মজুরিতে মাটি কাটার কাজ পেয়েছিলাম। তারপর থেকে বসা। বাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এসে বসে থাকি কাজ পাওয়ার আশায়। কিন্তু শীতের কারণে কেউ কাজে নিচ্ছেন না।’