মাঠে নাকি সংসদে, ৩০ জানুয়ারি কোথায় থাকবেন মাশরাফী ও সাকিব?

আগামী ৩০ জানুয়ারি বসবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন, ১০ তারিখ শপথ গ্রহণ করেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। ২৯৯ জন নির্বাচিত সাংসদদের ভেতর আছেন নড়াইল-২ আসন থেকে নির্বাচিত মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ও মাগুরা-১ আসন থেকে নির্বাচিত সাকিব আল হাসানও। 

দুজনেই খেলছেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে। ৩০ জানুয়ারি দুজনের দলেরই খেলা আছে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। তাই প্রশ্ন হচ্ছে, প্রথমবার সাংসদ হওয়া সাকিব এবং দ্বিতীয়বার সাংসদ হওয়া মাশরাফী কি প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ভোটারের ব্যালটের রায়কে প্রাধান্য দিয়ে সংসদে যাবেন নাকি পেশাদারিত্বের মর্যাদা রক্ষায় সেদিন মাঠে নামবেন?

মাশরাফী এবং সাকিব, দুজনেই বিপিএলে এখন পর্যন্ত একটি করে ম্যাচ খেলেছেন। দুজনের কেউই ফিট নন পুরোপুরি। সাকিব চোখের সমস্যায় ভুগছেন লম্বা সময় ধরে। ইংল্যান্ডে ডাক্তার দেখিয়ে এসে কুমিল্লার বিপক্ষে ম্যাচে খালেদ আহমেদের বলে বোল্ড হওয়ার পর বুঝেছেন সমস্যা শোধরায়নি। আজকেই সিঙ্গাপুরে গেছেন সাকিব। 

রংপুর রাইডার্সের কর্মকর্তা শানিয়ান তানিম দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, 'সাকিব আজকেই সিঙ্গাপুর গেল। কালকে ডাক্তারের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট। যদি ডাক্তার কোন চিকিৎসা পদ্ধতি বা অস্ত্রোপচার বা অন্য কিছুর জন্য পরে আবার দেখতে চায় বা কিছু করতে হয় তাহলে সে (সাকিব) থাকবে, না হলে হয়তো রাতেই চলে আসতে পারে। এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।' 

২৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার রংপুরের পরের ম্যাচে সাকিব খেলছেন না এটা প্রায় নিশ্চিত। সিলেট পর্ব থেকেই সাকিব যোগ দিতে পারেন দলের সঙ্গে। তানিম আরও জানিয়েছেন, বিদেশি বিকল্প খুঁজছেন তারা, 'আমরা এমনিতেই দলের শক্তি বাড়াবার জন্য বিদেশি ক্রিকেটার খুঁজছি। সাকিবের তো কোন বিকল্প হয় না আর ভালো মানের বাম হাতি স্পিনার-অলরাউন্ডার এর সংখ্যাও কম। সাকিবের বিকল্প নয় আমরা ভালো মানের বিদেশি ক্রিকেটার খুঁজছি, দলের শক্তি বাড়াবার জন্য।'

চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাওয়া অলরাউন্ডার যদি ফিরে এসে ম্যাচ খেলেন, তারপরও ৩০ জানুয়ারি তাকে দলের একাদশে পাওয়া যাবে কি না এই প্রশ্নের জবাব নেই তানিমের কাছেও। '৩০ তারিখ যে সংসদ অধিবেশন শুরু হচ্ছে এটা আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম' বলেছেন রংপুর রাইডার্স এবং শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের এই কর্মকর্তা। 

তিনি আশা করছেন সাকিব ফিট থাকলে মাঠেই থাকবেন। তবে রংপুর ফ্র্যাঞ্চাইজির চাওয়ার বিপরীতে দাঁড়িয়ে মাগুরা-১ আসনের ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩৮৮ ভোটার, যারা নৌকা প্রতীকে সাকিবকে ভোট দিয়ে সাংসদ বানিয়েছেন। সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনে তাদের এলাকার সাংসদ সাকিব উপস্থিত থাকবেন না, এটা কি এলাকাবাসী মেনে নেবেন? প্রথমবার সাংসদ হওয়া সাকিব কি অনুপস্থিত থাকবেন প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই? রংপুর রাইডার্স নাকি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কোন দলের হয়ে ৩০ জানুয়ারি দেখা যাবে সাকিবকে প্রশ্ন এখন সেটাই।

৩০ জানুয়ারি খেলা আছে মাশরাফীর সিলেটেরও। সেদিন সন্ধ্যায় ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে ম্যাচ সিলেট সিক্সার্সের, যে দলের দলনেতা মাশরাফী। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভোট চেয়ে মাশরাফী দ্বিতীয় মেয়াদে সাংসদ হয়েছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ১০২ ভোট পেয়ে। তাদের নির্বাচিত সাংসদ কি সংসদের প্রথম অধিবেশনের দিন মাঠেই খেলবেন না যোগ দেবেন অধিবেশনে? 

ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষের চাওয়াতে মাশরাফী সম্পূর্ণ ফিট না হয়েও খেলেছিলেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে ম্যাচে। ফ্র্যাঞ্চাইজির অংশীদার জগলুল হুদা তো বলেই দিয়েছেন, 'আমরা কোন দ্বিতীয় বিকল্পেই যাই নাই। উনি ব্যাটিং করতে না পারুক, বোলিং করতে না পারুক, ক্যাপ্টেন্সির জন্য হলেও মাশরাফী ভাইকে মাঠে চাই।' ফরচুন বরিশালের মত শক্তিশালী দলের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে কি অধিনায়ককে ছাড়বে সিলেট? 

৩০ জানুয়ারি নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই দুজন যোগ দেবেন না কি মাঠে থাকবেন, এই নিয়ে তাই কৌতূহল এখন থেকেই।