গোপালপুর নাগেশ্বরীতে দুই গৃহবধূকে হত্যা

হাতুড়িপেটায় কৃষক, সোনার চেইন ছিনতাইয়ে শিশু খুন

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে সোনার চেইন ছিনিয়ে নিতে নয় বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। একই উপজেলায় এক কৃষককে প্রতিপক্ষ হত্যা করেছে হাতুড়িপেটা করে। এ ছাড়া কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ঘুমন্ত স্ত্রীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে ও টাঙ্গাইলের গোপালপুরে শ্বাসরোধে স্ত্রীকে খুন করেছেন তাদের স্বামীরা। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

গোপালগঞ্জ : মুকসুদপুরে সোনার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে নন্দিনী বিশ্বাস (৯) নামে এক শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা ১১টার সময় উপজেলার ভাবড়াশুর ইউনিয়নের নলডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

শিশুটির বাবা বিজন বিশ্বাস বলেন, আমি আর আমার স্ত্রী সকাল ৬টার দিকে অন্যের জমিতে কাজ করতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ি। আমার ছেলেও স্কুলে যায়। আমার মেয়ে একা বাড়িতে ছিল। পরে আমার এক ভাগ্নে জানায় আমার মেয়ে বৈজনের দোচালা ঘরে শুয়ে আছে। খবর পেয়ে গিয়ে দেখি আমার মেয়ে ওখানে পড়ে আছে। পরে তাকে মুকসুদপুর হাসপাতালে আনার পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আমার মেয়ের গলায় একটি স্বর্ণের চেইন ছিল। তার গলায় ওই স্বর্ণের চেইন পাওয়া যায়নি। গলা থেকে চেইন নেওয়ার জন্য আমার মেয়েকে হত্যা করেছে।

মুকসুদপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আশরাফুল আলম জানান, তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

অন্যদিকে, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে অন্যের জমিতে দিনমজুরি করা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হাতুড়ি ও লাঠিপেটায় মোহসিন শেখ (৪৫) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। গত শনিবার রাতে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। গত শুক্রবার বিকেলে মুকসুদপুর উপজেলার মোচনা গ্রামে তাকে পেটানোর ঘটনা ঘটে। নিহত মোহসিন শেখ (৪৫) উপজেলার মোচনা গ্রামের মোতালেব শেখের ছেলে। মুকসুদপুর থানার ওসি মুহাম্মদ আশরাফুল আলম নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওসি মুহাম্মদ আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, মোহসিন শেখ ও তার ভাইদের সঙ্গে প্রতিবেশী দেলোয়ার চোকদার ও তার লোকজন এ ঘটনা ঘটায় বলে জানা গেছে।

কুড়িগ্রাম : নাগেশ্বরীতে স্বামীর কুড়ালের আঘাতে ঘুমন্ত স্ত্রী নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রবিবার ভোরের দিকে নাগেশ্বরী পৌরসভার হেলিপোর্ট কবিরের ভিটায়। নিহতের নাম লতা রানী শীল (৫০)। স্বামী সত্য চন্দ্র শীল (৬০) ঘটনার পর পালিয়ে গেছেন।

টাঙ্গাইল : গোপালপুর উপজেলা সদরের সুন্দর পশ্চিমপাড়ায় গত শনিবার রাতে স্বামীর হাতে দুই সন্তানের জননী আসমা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূ খুনের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রবিবার সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী ফজলু তালুকদারকে (৪০) পুলিশ আটক করেছে। তিনি ওই গ্রামের নুরুল ইসলাম তালুকদারের ছেলে।