তীব্র শীতে রিকশায় জবুথবু হয়ে যাত্রীর অপেক্ষায় বসে আছেন আফাজ উদ্দিন (৬০)। গতকাল রবিবার ফজরের আযানের পরেই রিকশা নিয়ে বেড়িয়েছেন তিনি। কিন্তু সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত কোনো যাত্রী পাননি। হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করে তবুও তিনি যাত্রীর অপেক্ষায়।
আফাজ উদ্দিনের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার দত্তপাড়ায়। গতকাল সকালে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে তাকে বসে থাকতে দেখা যায়। সেখানেই কথা হয় তার সঙ্গে। এত তীব্র শীতে বের হলেন কেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘পেটের জ¦ালা কি আর শীত মানে?’
আলাপকালে আফাজ উদ্দিন বলতে থাকেন, ‘বছরখানেক আগেও প্রতিদিন রিকশা চালিয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় করতাম। তা দিয়ে সংসার মোটামুটি চলত। আর অহন (এখন) সড়কে মানুষ কম। একে তো মানুষের হাতে ট্যাহা নাই, তার ওপর শীতে মানুষ রিকশায়ও উডে না। হাঁইট্টা যাইতাছে যাত্রীরা। সারা দিনে অহন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার ওপরে ভাড়া মারতে পারি না।’
স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে নিয়ে আফাজ উদ্দিনের পাঁচ সদস্যের সংসার। একমাত্র মেয়ে প্রতিবন্ধী। স্ত্রীর ওষুধের জন্যও গুনতে হয় টাকা। বাজার করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। ফলে করতে হচ্ছে ধারদেনা।
আফাজ উদ্দিন বলছিলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে আয়ের ৪০০ টাকা দিয়ে মাছ-মাংস দূরের কথা, ডাল-ভর্তা-ভাতও ঠিকমতো জুটছে না। বছরখানেক আগেও এ টাকায় সংসার ভালোভাবে চলেছে। এখন চাল, ডাল, আলু, সবজিসহ সব জিনিসের দাম বেশি। ওষুধ কিনলে অন্য কিছু কেনার টাকা আর থাকে না। অন্যদিকে, ভিক্ষাবৃত্তি করে পেট চালান উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের কানপুর গ্রামের আবু সাঈদ (৭০)। কাছাকাছি স্থানে তার সঙ্গে দেখা। আলাপকালে তিনি বলেন, ‘সারা দিন বিভিন্ন বাজারে ও বাসাবাড়িতে ঘুরে ঘুরে ২৫০ থেকে ৩০০ ট্যাহা পাই। আগে দুইলা (অল্প) চাইল-ডাইল কিনে কোনোমতে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে থাকতে পারতাম। কিন্তু এহন জিনিসপাতির যে দাম, মনে অইতাছে না খাইয়্যাই থাহন লাগব।’
এসব বিষয়ে ইউএনও ছাব্বির আহমেদ আকুঞ্জি বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষকে সহযোগিতা করতে টিসিবির মাধ্যমে ডাল, চিনি, তেলসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্য সুলভ মূল্যে বিতরণ করছে সরকার। পাশাপাশি নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।