ল্যাবএইডে ভুল চিকিৎসা

শাকিলকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রুল

মো. ইউসুফ মজুমদার শাকিল নামে এক ব্যক্তিকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতালের বিরুদ্ধে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। ভুল চিকিৎসায় ওই ব্যক্তির দুটি কিডনি নষ্ট হওয়ার অভিযোগ ওঠার পর ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল রবিবার বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ নির্দেশনা দেয়।

রিটকারীকে ভুল চিকিৎসা এবং অবহেলাজনিত কারণে তার কিডনি বিকল এবং জীবননাশের আশঙ্কায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১ কোটি টাকা দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না রুলে তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি, ল্যাবএইড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ওই হাসপাতালের চিকিৎসক মেজর জেনারেল অধ্যাপক ডা. এইচ আর হারুনকে রুলের জবাব দিতে বলেছে আদালত।  

একই সঙ্গে ভুল চিকিৎসার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ভুক্তভোগী ইউসুফ মজুমদার শাকিলের পক্ষে ২ জানুয়ারি হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া। আবেদনে তিনি বলেন,  ভুক্তভোগী ইউসুফ মজুমদার শাকিল ২০২১ সালের মে মাসে ল্যাবএইড ধানমন্ডি শাখায় চিকিৎসার জন্য গেলে তাকে জানানো হয় তার বামপাশের কিডনি বিকল। এটি অস্ত্রোপচার করে ভালো করা সম্ভব। এর জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন তিনি। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর আবারও ব্যথা শুরু হলে একই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, শাকিলের দুটি কিডনি বিকল হয়ে গেছে। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। এখন তার কিডনি প্রতিস্থাপন করতে ৫০ লাখ টাকা প্রয়োজন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাইফুজ্জামান জামান। আইনজীবী একলাছ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ল্যাবএইডে ৬ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করার পরও চিকিৎসকের ভুলে শাকিল এখন মৃত্যুপথযাত্রী। তার পক্ষে এত টাকা খরচ করে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্ভব নয়। তাই প্রতিকারে এ রিট আবেদনটি করা হয়েছে। আদালত রুল ও নির্দেশনা দিয়েছেন।’