শুদ্ধ ভালোবাসার খোঁজে

দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার পালা। দেশজুড়ে জেঁকে বসেছে শীত। কোথাও কোথাও কুয়াশার কারণে রোদের দেখা পাচ্ছে না, তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও নিচে। ঢাকা থেকে প্রায় ২৯.২ কিমি দূরে সালনা এবং সেখান থেকে প্রায় দশ মিনিট দূরত্বে অবস্থিত একটি রিসোর্ট। সেখানে চলছিল ভালোবাসা দিবসের বিশেষ একটি নাটকের শুটিং।

শুটিং স্পটে ঢুকতেই দেখা গেল খোলা মাঠের একাংশ বিয়েবাড়ির মতো করে সাজানো এবং সারি সারি রাখা চেয়ারে বসে আছে বহু মানুষজন। কাছে যেতেই দেখা গেল মনিটরের সামনে বসে নির্দেশনা দিচ্ছেন নির্মাতা জাহিদ প্রীতম। ক্যামেরার সামনে তখন অভিনেতা আবু হুরায়রা তানভীর। পরিচালকের কাছ থেকে শুনে চিত্রনাট্য অনুযায়ী শট দিচ্ছেন তিনি। অন্যপাশে একটু দূরে দেখা গেল অভিনেত্রী আইশা খানকে যিনি নিজেকে মুড়িয়ে রেখেছেন চাদরে। অবশ্যই স্পটে অবস্থিত সবাই তীব্র শীতে কাঁপছিলেন, কারণ সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ঠা-া তীব্র আকারে জেঁকে বসে। পাশে বসে গল্প করছিলেন আরও দুই শিল্পী প্রিয়ন্তী উর্বী ও মীর রাব্বি।

এর মধ্যেই এই প্রতিবেদকের সঙ্গে পরিচালকের কুশলবিনিময়। তিনি কফি অফার করলেন। তবে কফির পরিবর্তে এলো রঙচা। চায়ে চুমুক দিতে দিতে নাটকটি নিয়ে কিছুক্ষণ কথা বললেন। জানালেন, আগেই তিন দিনের শুটিং শেষ হয়েছে, এদিন ছিল শেষ দিনের শুটিং এবং চাপও ছিল খানিক। যেহেতু অনেক ঠান্ডা তার ওপর এই লোকেশনে শেষ করে রাতের মধ্যেই তাকে আবার ছুটতে হবে তিনশ ফিটের রাস্তায়। সেখানে একটি দৃশ্যায়ন চিত্রায়িত হবে। বললেন, ‘ভালোবাসা দিবসে একটু অন্যরকম গল্প উপহার দিতে চাই সবাইকে।’ সেই সঙ্গে জানালেন, এটি তিনটি অদ্ভুত প্রেমের গল্প নিয়ে নির্মিত হচ্ছে, যেখানে গল্পের চরিত্ররা তাদের শুদ্ধ ভালোবাসা খুঁজে পেতে চায়। প্রকৃতির অনীহা থাকার পরও, অনেক অপূর্ণতাকে পাশ কাটিয়ে এই গল্পের চরিত্ররা কী তাদের শুদ্ধ ভালোবাসা খুঁজে পাবে? এমন দোলাচল নিয়ে নির্মিত হচ্ছে নাটক ‘বুক পকেটের গল্প’।

এর মধ্যেই শোনা গেল আর্টিস্ট রেডি, নির্মাতা শট নিতে প্রস্তুত হয়ে চলে গেলেন। এর এক ফাঁকে কথা হলো আইশা খানের সঙ্গে। জানালেন, একটা সুন্দর টিমের সঙ্গে কাজ করতে পেরে ভীষণ আনন্দিত তিনি। এ ছাড়া গল্প এবং চরিত্র নিয়েও বেশ উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, ‘আমি “দাগ” নামে একটা ওয়েব করেছিলাম। এরপর অনেকগুলো কাজই করেছি, ভালো সাড়াও পেয়েছি। কিন্তু দাগের পর এখন যেই চরিত্রটা করছি সেটা আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লেগেছে। অনেক দিন পর এত সুন্দর একটা চরিত্র পেয়েছি। কাজটি নিয়ে অনেক আশাবাদী।’

শট দেওয়া শেষ করে যোগ দিলেন আবু হুরায়রা তানভীর। চায়ে চুমুক দিতে দিতে বললেন, ‘একটা নতুন টিমের সঙ্গে কাজ করছি, বেশ ভালো। নাটকের কাজ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছি। কিন্তু এই নাটকের গল্পটা বেশ ইন্টারেস্টিং। দর্শকরা মজা পাবে।’ এরপর দেখা মিলল প্রিয়ন্তী উর্বীর। নিজের রিহার্সাল শেষ করে চাদর মুড়িয়ে এদিক-ওদিক হাঁটছিলেন। তাকে কাছ থেকে দেখে বোঝা গেল, ঠান্ডায় জমে গিয়েছেন তিনি। বললেন, ‘আজকে অনেক বেশি ঠান্ডা পড়েছে, তার ওপর এ রকম খোলামেলা স্পেস, ঠান্ডাটা একটু বেশিই লাগছে।’ কাজটি নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘তিনটি গল্প নিয়ে নাটক, যেটা একটা জায়গায় এসে মিলিত হয়। এখানে তিনটি জুটি রয়েছে। এর বেশি কিছু বললে গল্প ফাঁস হয়ে যাবে। তবে খুবই সুন্দর একটি গল্প, দর্শকরা পছন্দ করবে আমার বিশ্বাস। সে সময় আরেক অভিনেতা শাশ্বত দত্ত গ্রিন রুমে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। শীতে বাইরে থাকতে পারছিলেন না। অন্যদিকে আরেক অভিনেত্রী মারিয়া শান্তকে দেখা গেল তখন ফোনে ব্যস্ত। এরপর রাত বাড়তেই এই প্রতিবেদক তাদের থেকে বিদায় নিয়ে ঢাকামুখী রওনা দেন এবং তারা ছোটেন তিনশ ফিটের দিকে।

নির্মাতা জানিয়েছেন, অদ্ভুত এক প্রেমের গল্পে নির্মিত এই নাটকটি দেখা যাবে ভালোবাসা দিবসে। মোহাম্মদ কামরুজ্জামান প্রযোজিত এই নাটকটি উন্মুক্ত হবে কেএস এন্টারটেইনমেন্ট ইউটিউব চ্যানেলে।