পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় একটি মাদ্রাসায় আয়া এবং নিরাপত্তাকর্মী পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে দুই ব্যক্তির কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সভাপতির বিরুদ্ধে। উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের নলী জয়নগর গ্রামের কাদেরিয়া দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ওই গ্রামের সাইদুল ইসলাম টিপু খান। গত বছরের অক্টোবর মাসে নিয়োগ সম্পন্ন হলেও চাকরিবঞ্চিত ভুক্তভোগীরা ঘুষের টাকা এখনো ফেরত পাননি।
মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ভুক্তভোগী আবুল কালাম হাওলাদার বলেন, ‘আমার স্ত্রী মাসুমা বেগমকে আয়া পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময় ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন সভাপতি টিপু খান। ওই ৫ লাখ টাকা জোগাড় করতে আমি সর্বস্ব হারিয়েছি। গত বছরের ৭ অক্টোবর আমার স্ত্রীর বিপরীতে অপর এক নারীকে চাকরি দেন। এরপর ওই ঘুষের টাকা চাইতে গেলে টালবাহানা ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন।’
আরেক ভুক্তভোগী সোনা মিয়া গোলদার বলেন, ‘আমার ছেলে ইসমাইল হোসেনকে নিরাপত্তাকর্মী পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ওই মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আউয়াল হোসেনের মধ্যস্থতায় ৪ লাখ টাকা দিই। কিন্তু অপর এক প্রার্থীর কাছ থেকে বেশি টাকা নিয়ে তাকে চাকরি দেন। আমার টাকা ফেরত চাইতে গেলে আমাকে ভয়ভীতিসহ হয়রানি করছেন সভাপতি টিপু খান।’
কাদেরিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আউয়াল হোসেন মধ্যস্থতার কথা অকপটে স্বীকার করে বলেন, ‘দুজনের চাকরির বিপরীতে ৪ জনের কাছ থেকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি টিপু খান টাকা গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে দুজনকে চাকরি দিয়েছেন। চাকরি বঞ্চিত দুজনের টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানাই।’
মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটির কারণে দিন দিন শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। ইচ্ছা করলেই মুখ খুলে সব বলতে পারছি না। আমরা ভীতসন্ত্রস্ত। আমার কাছ থেকে এক প্রকার জোর করে নিয়োগে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।’
অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাইদুল ইসলাম টিপু বলেন, ‘মাদ্রাসা সুপার ও শিক্ষক আউয়াল হোসেনের সঙ্গে আমার জমিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ রয়েছে। এজন্য তারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ূম বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’