পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে যাওয়া উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মচারীকে মারধরের ঘটনায় এক সপ্তাহেও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। এমনকি সেই অবৈধ স্থাপনাটিও এখনো সরেনি। গত ১৫ জানুয়ারির এ ঘটনায় ওইদিনই থানায় মামলা হয়। আসামিদের কয়েকজন থানার সামনে, চৌরাস্তা, পোস্ট অফিস মোড়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের খুঁজে পাচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে সরকারি দলের প্রভাবশালী দুই সহোদর জনপ্রতিনিধির ভয়ে পুলিশ প্রশাসন কাউকে গ্রেপ্তার করছে না।
প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দেবীগঞ্জ পৌর শহরের চৌরাস্তা-সোনাহার সড়কের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের বিপরীত দিকে সড়কের পাশের খাস জমিতে গত ১৪ জানুয়ারি রাতে দোকানঘর নির্মাণ করা হয়। পরদিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ৮/১০ জন কর্মচারী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে গেলে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। এসময় উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার গাড়িচালক ইমরান বাদশাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মুক্তার হোসেন বাদী হয়ে পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শিমুল ইসলাম, ছাত্রলীগকর্মী অয়ন ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সহসম্পাদক মো. হাকিমউদ্দিন ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক রয়েল ইসলামের নাম উল্লেখসহ ৭০/৮০ জনকে আসামি করে ওইদিন সন্ধায় মামলা করেন।
দেবীগঞ্জ থানার ওসি সরকার ইফতেখারুল মোকাদ্দেম বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।’ ইউএনও শরীফুল আলম বলেন, ‘সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি কর্মচারীদের মারপিট করার ঘটনায় মামলা হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা সরানো হয়েছে। বাকিগুলো সরানো অব্যাহত আছে।’