ইসরায়েলের পার্লামেন্টে হামলা চালাল জিম্মিদের স্বজনরা

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের হাতে বন্দি থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের স্বজনদের একটি দল গতকাল সোমবার ইসরায়েলের পার্লামেন্টে হামলা চালিয়েছে। জেরুজালেমে পার্লামেন্টের একটি কমিটির সভায় হামলা করে তারা। এ সময় তারা জিম্মিদের ছাড়িয়ে আনতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে আইনপ্রণেতাদের (এমপি) প্রতি আহ্বান জানান।

গত ৭ অক্টোবর হামাসের অতর্কিত হামলায় এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়। ওই সময় হামাস ২৫০ জনেরও বেশি মানুষকে জিম্মি করে নিয়ে যায়। এর মধ্যে অনেককে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, হামাসের হাতে আরও ১৩০ জনের মতো জিম্মি রয়েছে।

গতকাল এক নারী তার তিন স্বজনের ছবি নিয়ে পার্লামেন্ট চত্বরে যান। এ সময় তিনি ছবি দেখিয়ে তার স্বজনদের মুক্তি দাবি করেন। ইসরায়েলি আইনসভা নেসেটের অর্থবিষয়ক কমিটির অধিবেশনে গিয়ে এক বিক্ষোভকারী স্বজন বলেন, ‘একজনও যদি হয় তাকে আমি জীবিত চাই। তিনজনের একজন।’

আরেক বিক্ষোভকারী প্ল্যাকার্ডে লেখেন, ‘তারা যখন সেখানে মরছে, তখন আপনারা এখানে বসে বৈঠক করতে পারেন না। এখনই তাদের ফিরিয়ে আনুন।’

সম্প্রতি জেরুজালেমে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ করেন জিম্মিদের স্বজনরা। এরপরই স্বজনরা পার্লামেন্টে বিক্ষোভ করল।

ইসরায়েলে ৭ অক্টোবর হামলা প্রয়োজন ছিল : হামাস

হামাস বলছে, কিছু ভুলত্রুটি হলেও ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর ‘প্রয়োজন’ ছিল। সংগঠনটি দাবি করেছে, ওইদিনের হামলায় ইসরায়েলি সেনা ও সশস্ত্র ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে।  গত রবিবার ‘আওয়ার ন্যারেটিভ’ তথা ‘আমাদের বক্তব্য’ শিরোনামে ১৬ পাতার একটি বিবৃতি প্রকাশ করে হামাস। এতে বলা হয়, অপারেশন ‘আল-আকসা ফ্লাড’ নামে আকস্মিক ওই হামলা ‘ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলার জন্য একটি স্বাভাবিক জবাব।’

হামাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনাদের আটক করে তাদের বিনিময়ে ফিলিস্তিনিদের মুক্ত করাই ছিল লক্ষ্য। হামাসের আল কাসাম ব্রিগেডের সদস্যরা বেসামরিক মানুষজনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে চেয়েছিল। ওইদিন হামলার সময় যদি কোনো বেসামরিক ব্যক্তি আক্রান্ত হন, তাহলে সেটা দুর্ঘটনাবশতই হয়েছে।