জুনের মধ্যে টেশিসকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার নির্দেশ

আয় বৃদ্ধি এবং অপচয় কমিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টেলিফোন শিল্প সংস্থাকে (টেশিস) আগামী জুন মাসের মধ্যে লাভজনক অবস্থায় উন্নীত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

‘তিনি বলেছেন, স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য স্মার্ট টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস) গড়ে তোলার বিকল্প নাই। স্মার্ট টেশিসয়ের জন্য স্মার্ট সম্পদ ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।’

গতকাল সোমবার গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত টেশিসের দোয়েল ল্যাপটপ, টেলিফোন সেট, বৈদ্যুতিক স্মার্ট  মিটার তৈরির কারখানাসহ বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে এমন নির্দেশনা দেন। তিনি টেশিসয়ের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। এ সময় কিছু ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ২০১১ সালে দোয়েল ল্যাপটপ যাত্রা শুরু করেছিল কিন্তু পরিতাপের বিষয় তা সফলজনকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। মেড ইন বাংলাদেশ পণ্য দেশে এবং দেশের বাইরে রপ্তানি করতে টেশিস ব্যর্থ হলো। অথচ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ৯৪টি কম্পোন্যান্টের ওপর ইমপোর্ট ডিউটি কমিয়ে দেওয়ায় ১৭টি মোবাইল ফোন কারখানা বাংলাদেশে স্থাপিত হয়েছে। ল্যাপটপ কারখানা  হয়েছে এবং ভালো করছে।

এ সময় টেশিসয়ের উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন, ম্যানেজমেন্ট, মার্কেটিং, বিক্রয়ের পরে সেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

টেশিসকে লাভজনক অবস্থায় উন্নীত করার কৌশল তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংকটে আমরা রাজস্ব বাড়াতে চাই, অপচয় কমাতে চাই। আগামী পাঁচ মাসে আয় বাড়াতে পারলে আমরা লাভে যাব। আয় বাড়াতে না পারলে ব্যয় কমাতে হবে।’

বঙ্গবন্ধু আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করে গেছেন উল্লেখ করে পলক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালের ২৪ এপ্রিল টেলিফোন শিল্প সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার রূপকার তার কন্যা শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ পেয়েছি।’

‘ডিজিটাল বাংলাদেশের আর্কিটেক্ট বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের মেধাবী ও সাহসী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ আইসিটি সেক্টর থেকে রপ্তানি আয় করেছে ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। আইসিটি  পেশায় ২০ লাখ তরুণ তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পেরেছি। ১৩ কোটি মানুষকে ইন্টারনেটে যুক্ত করেছি। ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ চারটি মূল ভিত্তি ইতিমধ্যে সজীব ওয়াজেদ জয় ভাই তুলে ধরেছেন। আমাদের স্মার্ট নাগরিক  তৈরি করা, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সরকার, এবং স্মার্ট সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। আমরা তিনটি খাতকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিচ্ছি। সেটি হচ্ছে  আমাদের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করা, বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা,’ যোগ করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় টেশিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফ হোসেন, কালিয়াকৈরের বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাফর উল্লাহ, টেশিসের উপমহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) মো. ইসমাইল মিয়া ও জেনারেল ম্যানেজার মাইনুল হাসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।