থিয়েটারেই আমার জন্ম

‘দেশ নাটক’-এ ঢোকার পর প্রথম একটি পথনাটকে অভিনয় করেছিলেন বন্যা মির্জা। সেটি ছিল মাসুম রেজার রচনায়। নির্দেশক ছিলেন সালাহউদ্দিন লাভলু। আর প্রথম পূর্ণাঙ্গ নাটকের কথা বলতে গেলে, সেটি ছিল ‘ঘর লোপাট’। রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছিলেন শামসুল আলম বকুল। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময় সেখান থেকে ‘ডলস হাউজ’ করেছেন।

সাত মাস যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে থাকার পর সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন এই অভিনয় শিল্পী। ফিরেই ব্যস্ত হয়েছেন মঞ্চে। গত সন্ধ্যায় মহিলা সমিতিতে তার একক নাটক পারোর প্রথম মঞ্চায়ন হয়েছে। নাটকটির আজ দ্বিতীয় মঞ্চায়ন রয়েছে।

এই নাটক প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলছেন, একক নাটকের ব্যাপারে আমার কোনোদিনই আগ্রহ ছিল না। আমি কখনোই ভাবিনি আমাকে একক নাটক করতে হবে। মাসুম রেজা তার নিজস্ব ভাবনা থেকে একটি একক নাটক লিখেছেন। এরপর তিনি অনেকবার বলেছেন যে, এই নাটকটি তিনি আমার জন্যই অর্থাৎ আমার কথা ভেবেই লিখেছেন। এমনকি এই নাটকটি নিয়ে যে ইস্যুটি ছাপা হয়েছে, তাতেও তিনি লিখেছেন যে, তার লেখা তিনটি নাটক- পারাপার, পেন্ডুলাম ও পারোর মধ্যে একটি তিনি আমার জন্য লিখেছেন।

থিয়েটার দিয়ে শুরু হয়েছিল বন্যা মির্জার অভিনয়জীবন। এ প্রসঙ্গে বন্যা মির্জার ভাষ্য, থিয়েটার থেকেই আমার জন্ম। এসএসসির পরপরই আমি দেশ নাটকে যুক্ত হই। মঞ্চে আমার ৩০ বছর পূর্ণ হয়েছে। তাছাড়া আমরা একটি পরম্পরা মেনে চলেছি। আমাদের দলের সিনিয়দের দেখেছি প্রথমে মঞ্চ, তারপর শোবিজে নাটক কিংবা সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। আমিও তাই করেছি। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা নিয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছি দেশ নাটকে যুক্ত হওয়ার অনেক পরে।

নাটকের শিল্পীদের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এই অভিনয়শিল্পী বলেন,  বাংলাদেশের মঞ্চে ইসরাত নিশাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতা ছিলেন। তিনি আমার অভিনয়ের অনেক ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছেন। তার সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি, সেটি আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের ছিল। এছাড়া আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষকদের কথা বলতে চাই। রহমত আলী, ওয়াহিদা মল্লিক জলি, ইসরাফিল শাহীন এবং বিশেষ উল্লেখযোগ্য শিক্ষক হিসেবে বলতে চাই ড. সৈয়দ জামিল আহমেদের কথা। এছাড়া আমাদের শিক্ষক ছিলেন কবীর চৌধুরী, সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, নিরঞ্জন অধিকারী, মমতাজউদ্দিন আহমেদ, জিয়া হায়দার এবং ড. সেলিম আল দীন। তারা সবাই আমাদের কোর্স করিয়েছেন। আমাদের ব্যাচ ভীষণ সৌভাগ্যবান যে আমরা বাংলাদেশের সব ভালো শিক্ষকদের ক্লাস পেয়েছি। আর কপালে এমন অভিজ্ঞতা জুটবে কি না আমি জানি না।

বিভিন্ন মাধ্যমে অভিনয়ের পাশাপাশি দেশ নাটকের প্রায় সব নাটকের পোশাক পরিকল্পনা করেছেন তিনি। অন্য দলেরও বেশ কিছু নাটকের পোশাক পরিকল্পনা করেছেন। ‘পারো’ নাটকের কস্টিউম ডিজাইনও বন্যা মির্জার করা।